চোখের জল

এই বৃষ্টি এই বাতাস আর আমার ক্ষরিত হৃদয়,
যখন মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়,
আমার হৃদয়টা দুমড়ে যায়,
আর বুকের অন্তঃপুড়ে বড় ব্যথা হয়।

আমার দম বন্ধ হয়ে আসে
আমি পারি না কথা কইতে।

আমার সারা দিনভর যন্ত্রণা,
কেটে যায় সারা রাত, ঘুম আমার আসে না,
প্রচণ্ড ইচ্ছে করে চিৎকার করে কাঁদি,
কিন্তু হায়! কাঁদতাম ঠিকই, চোখে জল থাকতো যদি।।

বুড়ো হবো না

আমি পণ করেছি,
বুড়ো আমি হবো না কোনদিন,
গত হব বুড়ো হবার আগেই।

আমার শেষ শক্তি কণা,
যেন বুড়োদের মতন চিন্তায় ব্যয় না হয়,
সেজন্য আমি করেছি দীর্ঘ পরিকল্পনা।

ছক কেটেও যেন প্রকৃতি,
আমাকে বুড়ো করতে না পারে
আমি তৈরি করছি হাজারও স্মৃতি।

আমি বেঁচে রইবো,
বুড়োদের যত হিংসা ঘৃণা উপেক্ষা করে,
গান কবিতায় নিজেকে মিশিয়ে দিবো।

শব্দে শব্দে, বাক্যে বাক্যে মিশে গিয়ে,
আমি বুড়োদের মধ্যমা আঙ্গুলি দেখিয়ে,
গত হব বুড়ো হবার আগেই।।

যদি পিঁপড়ে হতাম

যদি পিঁপড়ে হতাম
বেশ হত বেশ হত
এক টুকরা চিনিতে সারা বেলা কেটে যেত
কত বিশাল অন্তত মনে হত
ছোট্ট পৃথিবীটা আরও বড় হত

মৃত্যু কত সহজ হত
সংখ্যায় হতাম শত শত
নিঃশেষ হত না পৃথিবীর সম্পদ যত

কিন্তু মানুষ হয়ে জন্ম নিয়ে
কত সহজেই খেয়ে নিচ্ছি
গোটা ধরণী
ছিঃ ছিঃ লজ্জা।

তুমি

তোমাকে যতবার ভেবেছি কল্পনায়
তা থেকে বেশি এসেছ তুমি বাস্তবতায়,
তোমাকে যত লিখেছি কবিতা খাতার পাতায়
তা থেকে বেশি জমা ছিল শব্দ গুচ্ছ তোমার সঞ্চিতায়,
ভালোবাসা বলে কাকে উত্তর খুঁজতে পড়েছিলাম বেড়াজালে
সবার অন্তরালে এই তুমি মানেটা কত সহজে শিখিয়ে দিলে,
বেঘোরে যখন চেয়েছি বাঁচার মতন বাঁচতে এই বসুধায়
সঙ্গ দিয়েছ সাহস দিয়েছ সাথী হয়েছে সহযাত্রায়।

সে এদিন চলছে

সেদিন গিয়েছে
এক মেয়েকে দেখে তন্ময় হয়ে বসেছিলাম
সেদিন গিয়েছে
ঐ মেয়েটিকে নিয়ে কত কি ভেবেছিলাম
সেদিন গিয়েছে
গোপনে গোপনে কত কি কাগজে কলমে লিখেছিলাম।।

তবে সেদিন এসেছিল
মেয়েটি আমার অপেক্ষায় বসে ছিল
সেদিন এসেছিল
ওই মেয়েটি আমাকে কত কত ভেবেছিল
সেদিন এসেছিল
কত কি কাগজে কলমে লিখেছিল।।

তারপর সেদিন চলছে
দুজন এক সাথে বসে আছি
দুজন এক সাথে কত কি ভাবছি
দুজন এক সাথে কাগজে কলমে কত কি লিখছি।।

তোমারে ভালোবাসি

তোমারে ভালোবাসি বালি না বারবার,
বাসতে চেয়েও পারি না, যতটুকু ভালোবাসা দরকার।
রাগ করো হয়তো অনেক অভিমানে,
ঐ রাগে তুমি অদ্ভুত সুন্দর, তা কি কেও জানে?

অজস্র তোমার ভালোবাসায় আমি আপ্লুত
আমি ঋণী তোমার কাছে, তবুও ক্ষমা চাই না শত।
তোমার জন্য আমার হয়ে উঠে না লেখা কোন কবিতা
ভেবো না এর জন্য কমবে আমার হৃদ্যতা।

কত দূরে, কত দূরে তুমি আমি তা জানি
দূরত্ব সে তো বাধা নয়, তুমি আমার হৃদয়ে থাকা রাণী।

তুমি আছো আমি আছি

সেদিনটা খুব চমৎকার ছিল
ছিল না?
কত দিনের পর স্পর্শ, ছোঁয়া, অনুভূতি
সারা জীবনের জন্য গেঁথে যায়
দুটি দিন কত অল্প সময়, তাও স্মৃতিতে ঢুকে যায়
জানি না এর ব্যাখ্যা কি?
জানি না এই সব ঠিক কিনা অনুচিত
তবে এটা বোধ হয় ইচ্ছা প্রকৃতির।

যেন রূপকথা মনে হয়
বড় রূপকথা মনে হয় তুমি আছো
আমি আছি, ভালোবেসে।

প্রিয়কে আঁকার অভিপ্রায়ে উপলব্ধির ক্যানভাসে

অসীম শূণ্যতা রাতের আঁধারে
নির্লজ্জ মন সাদা রেখা টানে
ভেসে উঠে চাঁদ, তারা
খেলে যায় বিক্ষিপ্ত সত্তা।

ভাবলেই ঝরতে চায় এক পাক্ষিক সময়হীনতা
উল্কার মত বিলীন হতে যায়
মাঝে পিণ্ড হয়ে জ্বলে উঠে সাদা আলোয়
কেঁপে উঠে আর চিৎকারে প্রকাশ ঘটায়।
ভেঙ্গে যায় রাতের মঞ্চ,
এলোমেলো সাদা রেখা ধূমকেতুর মতন
দিক বিদিক ছুটতে থাকে,
প্রিয়কে আঁকার অভিপ্রায়ে উপলব্ধির ক্যানভাসে।
স্পষ্ট থেকে স্পষ্ট, নিখুঁত থেকে নিখুঁত,
ক্রমাগত ফুটে উঠা জীবন্ত প্রিয়।

হাতছানি দিয়ে জানান দেয় বিক্ষিপ্ত সত্ত্বার অবস্থান
চমকে ফেটে পরে সব,
সময় নিমিষে ব্যস্তভাবে পালাতে থাকে
প্রচণ্ড নিস্তব্ধতার মাঝে বিক্ষিপ্ত সত্ত্বা
কান চেপে রুখতে চায় তার সৃষ্টির ধ্বংস যজ্ঞ,
পারে না বরং ছেয়ে যায় ব্যর্থতায়,
আর রূপান্তরিত হয় রাতের শূণ্যতায়।

সুখ ফেরিওয়ালা

সুখ যেন চলে গেছে বহুদূরে
ঘরের ফেরিওয়ালা আর করে না ফেরি রঙিন ফিতে।
ঐ ডাক শোনা যায় না আর,
আশপাশে উঁকি দিয়ে দেখা নাই তার।
দুপুরগুলি, ভাতের ধোঁয়া উঠা থামে নি তখনো,
মরিচ বাঁটার শব্দ আর বাতাসে পুরনো সেই ঘ্রাণ।
তবুও সুখ যেন চলে গেছে বহুদূরে,
গরম ভাতে-সালুনে মিটে না পুরনো খিধে।।

বাজার বিষ

গিয়েছিলাম বাজারে
কিনেছিলাম পটল কাঁকরোল ঝিঙে
বেছে বেছে আলু, লাউও আছে সাথে
কুমড়াও নিয়েছিলাম বটে।
সাত দিনের বাজার শেষে
তৃপ্তি ঢেকুর তুলে
ঢুকলাম মাছের বাজারে।
হৃষ্টপুষ্ট মাছ দেখে
জিভে পানি আসে আগে চলে
নিলাম রুই একখান দাম হেঁকে
নানা কায়দায় পেট টিপে
ফরেনসিক টেস্ট শেষে
দ্বিতীয় তৃপ্তি ঢেকুর তুললাম।।

বাসায় এসে বাজার রেখে দিয়ে
দৈনিক পেপারে চোখ রাখি গিয়ে
নিত্যদিনকার খবর আমাকে দেয় মনে করিয়ে
আমি কিনে এনেছি বাজার থেকে
একগাদা বিষ!!

খসড়া ১.০ / ১৭-০৮-১৫