১৫ আগস্ট শোকদিবস / জন্মউৎসব

শোক দিবসে বিরিয়ানি পোলাও খিচুড়ি এর বদলে জন্মদিনের কেক কাটা কম বিশ্রী লাগে।
অথচ দুইটা জিনিসই বিশ্রীই। ১৫ আগস্ট উদযাপন এবং আয়োজনের ধরণ কেক কাটাকে অধিক বিশ্রী হওয়া থেকে বাঁচায় দিয়েছে।
বলতে বাধ্য হচ্ছি, আওয়ামীলীগ যতনা এই মর্মান্তিক দিনটা কে স্মরণে কিছু করে তার চেয়ে বেশি ভয়ে থাকে খালেদা জিয়ার কেক কাটা নিয়ে। মানে ১৫ আগস্ট তাদের প্রধান ভয়ই হচ্ছে খালেদা জিয়ার কেক!
রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিবোধ তো নাই ই একই সাথে আক্কেলও নাই। অদূর ভবিষ্যৎ এ হবে কিনা তাও নিশ্চিতয়তা নাই। এক ছবিতে দেখলাম বিরিয়ানির প্যাকেটে বঙ্গবন্ধুর ছবি! ক্রিয়েটিভিটি বটে! বিরিয়ানি খাওয়া শেষে সব যাবে ডাস্টবিনে!
আর যত ব্যানার বানানো ঝুলানো হয়েছে, মাশাল্লা প্রয়াত নেতার পাশে হাসোজ্জল সৌজন্যে নেতা! চাঁদার টাকা নিয়ে হাতাহাতিও হচ্ছে পত্রিকায় পড়লাম। বাহ!
স্বয়ং জাতির পিতা যদি কোনভাবে বর্তমান অবস্থা দেখতেন তবে আমার মনে হয় লজ্জাই পেতেন।

এখনও

এখনো চড়ুইরা চেষ্টা করে,
বারান্দার চতুষ্কোণে,
বাঁধতে ছোট্ট এক খানি বাসা।

এখনো কাকেরা চেষ্টা করে,
নগরের আবর্জনা খেয়ে নিয়ে,
পরিচ্ছন্নতার সর্ব চেষ্টা।

এখনো কুকুরেরা চেষ্টা করে,
নগরের রাত বিরাতে,
পাহারা দিয়ে সাধ্য মতন নিরাপত্তা।

আর মানুষেরা!
এখন মানুষ ভুলে গেছে,
স্বপ্ন মাখা চোখ নিয়ে এককালে
সেই ছিল এই নগরের স্রষ্টা।

খসড়া ১.০ / ১৫-০৮-১৫

সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে

সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে
তোমার আমার বলার থাকবে না কিছু
তোমার আমার করার থাকবে না কিছু

সব কিছুই হারিয়ে যাবে
তোমার আমার খোঁজার থাকবে না কিছু
তোমার আমার পাবার থাকবে না কিছু

খসড়া ১.০ / ৯-০৮-১৫

বন্য শুয়োর

কিছু অসভ্য বন্য শুয়োর আজ ঢুকে গেছে,
মানুষের সমাজে,
দেখতে অবিকল মানুষ ই ওরা!
তিন বেলা ঠিকই খায়,
তার সাথে মিশিয়ে খায়,
বাচ্চা শিশুর বীভৎস মৃত্যু!
আর আমাদের জনপ্রতিনিধি,
মানুষ সভ্য করতে গিয়েছে নাকি আফ্রিকা!!

খসড়া ১.০ / ০৪-০৮-১৫

পৃথিবীটা ভালো নেই

পৃথিবীটা ভালো নেই
সহস্র বছরের বিবর্তনে সভ্যতা গড়েনি
গড়েছে অসভ্যতার অন্ধকার,
হিংস্রতা-ঘৃণা-লোভ মানুষে মানুষে,
যুদ্ধ-মৃত্যু মানে ছাড়া পুরনো প্রাচীন ধ্বংস যজ্ঞ
ফিরে আসে বারবার।

সময়টা হতে পারত সবুজে সবুজে
শিশুরা খেলবে মাঠে
প্রেমিক প্রেমিকারা দুটি হাত ধরে স্বপ্ন বুনবে
বন্ধুরা মাতবে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে

তা না হয়ে,
পৃথিবীটা বড় অশান্ত, উত্তপ্ত
পৃথিবীটা ভালো নেই।

সংগীতের করুণ সুর রক্তাক্ত করে আমায়,
ভায়োলিনের তীক্ষ্ণতা টুকরো টুকরো হৃদয়,
এক চিলতে ফাকা নীল আকাশ বুকের ভেতরে জন্ম দেয় হাহাকার,
বিকেলের হলুদে রোধ ঢেলে দেয় বিষণ্ণতার ভার,

আমি ক্লান্ত, সত্যি খুব ক্লান্ত
দুর্ভাগা মানুষ প্রজাতির একজন হয়ে
পৃথিবীটাকে আর অনুভবে নিতে পারি না
পৃথিবীটা ভালো নেই।

মেধাতালিকা এ+ ভালো রেজাল্ট

বিষয়টা নিয়ে আগেও ভেবেছি। আমি কখনই মেধা তালিকা করার পক্ষপাতী নই। মেধার কখনও তালিকা হয় না। জ্ঞান মাপার কোন সুনির্দিষ্ট মাপ কাঠি কি আদৌ আছে?
কোন এক লোক একটা কাজ যেভাবে সম্পাদন করলো অন্য একটা লোক সেই ভাবে কাজ সম্পাদন করবে না। এক একটা সমস্যা সমাধান করার পদ্ধতি এক এক জনের এক এক রকম হবে। কেও কোন কাজে চরম উৎকর্ষতা দেখালে হতে পারে সে অন্য এক কাজে কিছুই জানেন না। কেও কোন এক বিষয়ে অগাধ জ্ঞান রাখলে অন্য একটা বিষয় নিয়ে সেই ই হয়তো কিছুই বলতে পারবে না।
কে কতটুকু জ্ঞান অর্জন করছে তা কি সত্যিই পরিমাপ করা যায়? আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতিতে যে গ্রেডিং করা হচ্ছে তা দিয়ে কি জ্ঞান পরিমাপ করা যায়? না পরবর্তী পড়াশুনার জন্য যোগ্য সেটা প্রমাণ করা যায়?
অদ্ভুত! ছোট ভাই বোনদের রেজাল্ট নয় তাদের ভবিষ্যৎটা ভেবে খুব আতংক লাগছে। A+ পেলে সেখানে ধরা হচ্ছে নিশ্চিন্ত। কিন্তু A+ পাওয়া শিক্ষার্থীটি কি আসলেও অর্জন বলে কিছু বলতে পারবে। আমি বিষয়টাকে সরলভাবে ভাবি সে জীবনের অনিশ্চয়তার জায়গা থেকে সাময়িক মুক্তি পেল। গোল্ডেন পাওয়াতে তাকে আগামী ২ বছর অনেকগুলো বিষয় ভাবতে হবে না। হলেও অন্যভাবে ভাবতে হবে।
আর যে ছেলেটা একটি বা দুটির জন্য গোল্ডেন মিস করলো। তার ঘুম হবে না। তার অনিশ্চয়তার দিন শেষ হবে না। আর তারপর যে কেবল গ্রেড প্রাপ্তরা ছাত্ররা তাদের নিয়ে কেও কি ভাববে? অথচ সংখ্যায় কত এগিয়ে!
কতগুলো ছেলে ফেল করবে, কতগুলো ছেলে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হবে না সেই অনিশ্চয়তায় জীবন নিয়ে কেও কি ভাববে না? তারা কি নাম লেখাবে কেবলই বাতিলের খাতায়?
হাস্যকর ঠেকেবে এই গোল্ডেন ধারীরা যখন আরও এক দফা গোল্ডেন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা যুদ্ধে আসবে। সেখানে কোচিং এর দাপট সেখানে কোটার দাপট সেখানে সব দাপট দেখিয়ে খুবই কিছু সংখ্যক উচ্চ শিক্ষায় আসবে। তারপরও কি অনিশ্চয়তা দূর হবে!
বুয়েট, ঢাবি, মেডিক্যাল থেকে পাস করার পরও একটা ভালো চাকরির নিশ্চয়তা এই ছোট ভাইবোনদের ঘুম কেড়ে নিবে। বাতিলদের না হয় গোনাতেই ধরলাম না। ব্যর্থদের না হয় আলোচনায় আনলাম না।
মানুষ কেবল সফলতার গল্প শুনতে পছন্দ করে। ফেসবুক ব্যস্ত সফল নায়িকা দীপিকা নিয়ে। ফেসবুকের অনেক অংশজুড়ে ব্যস্ত এখন দীপিকাকে নিয়ে। কেও কোন ব্যর্থ দীপিকার গল্প শুনতে ভিড় করবে না। কেও কোন ব্যর্থ দীপিকার দুটি গল্প শেয়ারও করবে না। এই সময়ের মধ্যে ফেসবুকময় ছোট ভাইবোনদের উল্লাস ভরা স্ট্যাটাস এর ঠিক অন্তরালে চাপা পড়ে যাচ্ছে অজস্র ছেলে মেয়ের কান্না ভরা গল্প যা কখনই লেখা হবে না। বলাই আছে, মানুষ কেবল সফলতার গল্প শুনে।
এই সমাজে কোন কিছু করার পর তৃপ্তি পাওয়া যায় না। এখানে মেধা বিচারের মানদণ্ড এই ছেলেটা ওই ছেলে থেকে বেশি নাম্বার পাইছে সেটা। নিজেকে নিজে ছাড়িয়ে যাওয়ার কোন বিষয় নেই। অন্যকে দিয়ে নিজেকে যাচাই করাই হল এখানকার ব্যবস্থা।
তুমি গোল্ডেন A+ পাইছো? আমি বলবো বেশ। পথ আরও মেলা বাকী। জীবনে সব অর্জনই রূপকথা যতক্ষণ না পর্যন্ত তুমি সফল হও।
যদি বলো ফেল করছো? আমি বলবো তাও বেশ। রূপকথায় ঝড় তুফান আসে। সফল হও।

ট্রেন

আমি প্রায়ই একটা ট্রেন এ চড়ি। ট্রেনের শেষ বগিতে একলা আমি বসে। ট্রেনের পরিচিত শব্দ আর দুলুনি আমি টের পাই। আর আতংক লাগে, কেবল মনে হয় আমি যেন আমার স্টেশনটাতে নামতে পারবো না।
আর সেটাই হয়। আমার স্টেশনে ট্রেন থামে না। চলতেই থাকে। আমি আতংকিত হয়ে বগিতে বসে থাকি। ট্রেন চলতেই থাকে। এটা একটু লুপের মতন চলতে থাকে অনেকক্ষণ।
তারপর আমি জেগে উঠি।

সম্পর্কের জটিলতা

অনেক সম্পর্কের জটিলতাগুলোই তো দেখলাম। কত অদ্ভুতভাবে সমাজের চোখে কিংবা পরিবারের চোখে ব্যক্তি সম্পর্কগুলো জটিল হয়ে আছে। এই জটিলতাগুলো এক ধাক্কাতেই দূর করা যায়। ঐ মানুষগুলো কেন জানি জটিলতা টিকিয়ে রেখে কষ্ট পেয়ে যেতেই বরং বেশি আগ্রহী। কি যেন বলে এটাকে কষ্ট থেকে সুখ পাওয়া। অথচ ঐ সম্পর্কের গল্পগুলো কত না সুন্দর হতে পারতো!