নাম বলতে চাই না, চাকরি থাকবে না :/

কেও কেও দামি হ্যান্ড সেট ব্যবহার করেন। অনলাইন উপস্থিতিও খারাপ নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার ইত্যাদি বেবাক জায়গায় একাউন্ট করা। আবার ম্যাসেঞ্জার, হ্যাঙআউট, হোয়াটসএ্যাপ, ভাইবার, ইমো ইত্যাদিতেও সবার আগেই আছেন। এই কেও কেও দের দুটি নাম্বার সব সময় থাকেই, আরও অসংখ্য নাম্বারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ইমেইল একাউন্টও পাওয়া যায় বলাই বাহুল্য।

সমস্যাটা হচ্ছে, ডাইরেক্ট ফোন না করলে এই কেও কেও বান্দাদের বেশিরভাগ সময়ই ওসব জায়গাগুলো থেকে রেসপন্স পাওয়া যায় না। আমার ডাইরেক্ট ফোন করে কথা বলতে খুব একটা ভাল লাগে না সব সময়। ছোট খাট বিষয়গুলো শর্ট ম্যাসেজ করি, সাধারণত ম্যাসেঞ্জার জাতীয় মাধ্যমগুলোতে। অনলাইনে একটিভ না পেলে সরাসরি এসএমএস করি। অথচ বান্দাদের এমনই স্মার্টনেস, বেশিরভাগ সময় তাদের দ্রুত রেসপন্স পাওয়া যায় না। দুষ্কর। স্মার্টফোনধারী স্মার্টলোক!! ইমেইল যোগাযোগ এর কথা নাই বা বলি। এদের একাউন্ট থাকলেও, হিসাব থাকে না।

এর উল্টো ঘরানার লোকও রয়েছেন। তাদের আমার ভাল লাগে। বরং ফোনে তাদের পাই না। ফোনে না পেলে একটা ম্যাসেজ দিয়ে রাখলে উনারা দ্রুততম সময়েই সাড়া দেন। জরুরী কিছু হলে ফোন ব্যাক করেন। ইমেইল জবাব দেন। উনাদের দেখেছি বেশিরভাগই সফল লোক কিংবা সফল হতে যাচ্ছেন এমন। অনুসরণীয়। ফালতু কথা উনারা কম বলেন। যা জানেন না বোঝেন না, তা নিয়ে একটা কথা বাড়তি বলেন না। উনারা যেমন সুন্দর করে না বলতে পারেন, তেমনি অসম্ভব রকম চাপ নিয়ে প্রচুর দায়িত্বও নিতে পারেন। কিছু লোকদের দেখি মায়ের হাতে ভাত খেয়ে আরামে দিনকাল যাপন করছেন, দায়িত্ব নেন না। পরিশ্রম করেন না। মুখের উপর নাও করে দিতে পিছপা হন না। এই ধাঁচের লোক প্রচণ্ড অকৃতজ্ঞ। এবং হীনমন্যতায় ভুগে। একাকীত্ব বিষণ্ণতা পিছু ছাড়ে না তাদের।
ফ্রেন্ড লিস্টে অসম্ভব কিছু ভাল মানুষ রয়েছেন, যাদের সময় জ্ঞান আর দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারা, প্রচণ্ড রকম মুগ্ধ করে আমাকে। কেবল জীবন জীবিকা নয়, একটি সুন্দর সামাজিক জীবনও পার করেন। পরিবারকে সুন্দর সময় দেন। বন্ধুবান্ধবদের সাথেও আছেন। কাজ কর্ম যে তাদের খুব কম তা নয়। বরং তাদের কাজের যে ধরণ, অন্যরা শ্বাস নিতে পারত কিনা আমার সন্দেহ। তাদের পর্যবেক্ষণ করে যেটা লক্ষ্য করেছি, সময় ব্যবস্থাপনা তারা খুব ভাল বোঝেন। এবং কোন কাজ ফেলে রাখেন না।
মেধাবী কিছু মানুষ জন রয়েছেন, একাডেমিক ক্যারিয়ার দেখার মতন। তাই বলে, অন্য কার্যক্রমে নাই তা নয়। বরং নন একাডেমিক কাজগুলোতেও তাদের উদ্যম লক্ষণীয়। এই ফেসবুকে স্ট্যাটাস পড়ার যুগে তারা মাসে ২-৩ টা বই গড়ে শেষ করে ফেলেন। আজকাল, পড়াশুনায় সবচেয়ে কম সময় দেয়া ছেলেটাও মুখের উপর বলে বসেন, সময় নাই তাই বই পড়তে পারেন না। আমি মুচকি হাসি। কারণ ওসব ছেলের রুটিন আমরা সবাই দেখি জানি।
এক ছেলেকে চিনি, বিজ্ঞান নিয়ে লেখে, সংগঠন করে। পড়াশুনাতেও এগিয়ে। ভাল করছে। কারণ কি? পর্যবেক্ষণ বলে, তার জীবনটা খুব শৃংখলায়িত। শৃংখলায়িত মানে এই নয় যে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠবো। বই নিয়ে বসবো। ঘড়ি ধরে কাজ করবো। শৃঙ্খলা মানে সময়-জ্ঞান এবং প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো শেষ করা। অপ্রয়োজনীয় জায়গায় সময় নষ্ট না করা। সব ধরণের কার্যক্রমে একটা সীমা রক্ষা করা। কেও যদি একাডেমিক লাইফে অতিরিক্ত বাইরের বই পড়েন, সেটা শৃঙ্খলা হবে না। কিংবা অতিরিক্ত সংগঠনে সময় দেয়। কোথায় কতটুকু সময় দিতে হবে তার একটা হিসাব রয়েছে। এই ছেলেটা সুন্দর মতন এটা পারে। তাকে দেখে আমার ইচ্ছে করে, ইশ! ওরকমটা যদি আমি পারতাম! ছেলেটাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি যে এমনটা পারছো তা কিভাবে পারছো? সে বললো, ভাইয়া আমি ঘুমাই। ঘুম নিয়ে আমি কম্প্রোমাইজ করি না। যত ঘুম দরকার ততই ঘুমাই। আর সবার আগে আমার সব থেকে ভাল লাগা কাজটা শেষ করি। মজার বিষয় হচ্ছে, ছেলেটার একাডেমিক যে বিষয়বস্তু সেটাই তার আগ্রহ ধ্যান জ্ঞান।

আমি মনে করি, সমাজে এখনও এরকম দশা তৈরি হয় নি, যে আপনি দৈনিক ৩০ মিনিট বের করতে পারবেন যে ৫-১০ পাতা বই পড়তে পারবেন না। এমন দশা হয়নি যে, দেশ নিয়ে দুটি কথা লিখতে পারবেন না। কিংবা জমে যাওয়া মানুষের ম্যাসেজ এর জবাব দিতে পারবেন না। পরিবারকে সময় দিতে পারবেন না। বন্ধুদের সময় দিতে পারবেন না।
এই লোকগুলার কিছু বাজে অভ্যাস এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, এরা যখন কোথাও বসে আর উঠতে চান না। আড্ডা একবার শুরু করলে শেষ করতে চান না। এরা কাজের সীমা যেমন বোঝেন না, তেমনি বোঝেন না সময় দেবার সীমারেখা। কাজ আর সময় এদের যেমনে চালায় এরা তেমনই চলেন। একবার এক অফিসে গেলাম, কাজ আমার খুব ছোট। দেখলাম বিশিষ্ট স্যারেরা বসে আছেন। আমাকে বলা হল অপেক্ষা করতে। আমি অপেক্ষা করছি আর দেখছি, মিটিং রুমে তারা বেশ গল্প করছেন। আমি বসে আছি দেখে, আমাকেও ডাকলেন। আমি কাজের প্রসঙ্গ তুলতে পারলাম না। তারা গল্প টেনে নিয়ে গেলেন দুপুরের খাবার বিরতি পর্যন্ত। খাবার বিরতিতে, উনাদের সাথে খেতে খেতে, সংক্ষেপে উনারা আমার আর তাদের মধ্যকার কাজের কথা শেষ করলেন। আর এর জন্য আমাকে মূল্য দিতে হলো সব মিলিয়ে ৩ ঘণ্টারও বেশি সময়।
এক বন্ধুর মুখে লেগেই থাকে, তার সময় নাই। খুব ব্যস্ত। কাজে অকাজে ডাকলেও উত্তর ব্যস্ত। একবার ডাকলাম এক কাজে। ফোনে জানালেন, অনেক ব্যস্ত তবে আসবে ১০ মিনিট এর জন্য। বন্ধু আসলেন, বসলেন। কথা আমার ১০ মিনিটেই শেষ। বন্ধু যায় না। ঘণ্টা গড়িয়ে ২.৫+ ঘণ্টা পার হবার পর, অন্য এক জায়গা থেকে কাজের আলাপ আসার পর বন্ধুটি প্রস্থান করেন। দোষ কি দিব বলেন, তার সময় হিসাব থাকে না!

বছর পাঁচেক আগে এক লেখকের বাসায় গিয়েছিলাম। উনার সময়-জ্ঞান আমাকে প্রচণ্ড মুগ্ধ করেছিল। উনার যে পরিমাণ কর্মব্যস্ততা তারপরও উনি আমাকে তিনদিন সময় দিয়েছিলেন। নানা বিষয়ে নানা কথা বলেছিলেন। উনার দেয়া দিনের ৩০-৪০ মিনিট সময় আমাকে শিখিয়েছিল বেশ কিছু জিনিস। উনার একটা কথা রাখতে পারি নি। উনি শুধু একবাক্যে একটা জবাব দিয়েছিলেন, যাবার সময় রিকশা ঠিক করে পিঠ চাপড়ে দিয়েছিলেন। তাঁর এক লাইন খুব অসাধারণ লাইন ছিল না। তবে যে জীবন আচরণ এবং গম্ভীরতা উনি ধারণ করেন, সেই অতি সরল সাধারণ বাক্যটি আজকেও আমার কাছে খুব লাগে। আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। তারপর কাওকে কথা দিলে চেষ্টা করি, রাখার জন্য। যে কথা দিতে পারবো না, তা দেয় না। পুরোপুরি পারি যে তা না। না পারলে আগে ভাগেই জানানোর চেষ্টা করি, অপারগতা প্রকাশ করি দুঃখিত হই।

আজকাল চারপাশে কথা দিয়ে কথা রাখতে না পারার অভ্যাসটাই বেশি প্রচলিত। গত ৫-৬ মাসে এত জন, এত প্রিয় মানুষ, কথা দিয়েও কথা রাখেন নি। তাদের আর কিছু বলতেও ইচ্ছে হয় না আর। তাদের জীবন আমি দেখি। সীমিত জীবন আমরা কি নিদারুণ অবহেলায় কাটিয়ে দিচ্ছি। কোন অর্জন নেই। শূন্য এক জীবন। নিঃসঙ্গ তাদের হাসি তামাশা আনন্দ। কৃত্রিমতাভরা তাদের দিনকাল।

এত এলোমেলো কথা বললাম, তার কি মানে আছে? আমি একটা যোগসূত্র আছে মনে করি। মাথার উপর হয়তো কথাগুলো চেপে ছিল তাই লিখে ফেললাম। লেখা ধরলে আমার হাত অনেক সময় থামতে চায় না। মনে হয় মগজের ভেতরে বসে কেও সুতো টেনে আমার হাত চালাচ্ছে। সে যাই হউক, যোগসূত্রটা হচ্ছে এই যুগের স্মার্ট লোকগুলো কারা?
আমি সৌভাগ্যবান, ফ্রেন্ড লিস্টে প্রায় ডজন খানেক বন্ধুবান্ধব হয়েছেন যারা সেই স্মার্ট লোক। এই বিশৃঙ্খল দুনিয়ায় এখনও তারা শৃঙ্খল, এখনও তারা সামাজিক, এখনও তারা বন্ধুবাৎসল্য। এখনও তারা মানুষের বিপদে সর্বাগ্রে। এই মানুষগুলোর মনেও অনেক দুঃখ থাকে। আপনি বুঝতে পারবেন না। ধরতেও পারবেন না। অনেক প্রাণবন্ত থাকলেও ভেতরে লুকিয়ে থাকে, একটা দিক সেটা কখনও প্রাণবন্ত কখনও না। এইরকম স্মার্ট লোকদের বুঝতে আপনি পারবেন, তাদের অনুভব করতে পারবেন কিংবা হতে পারবেন ভাল বন্ধু, তখনই যখন আপনি তাদের মতন স্মার্ট হবেন।

আপনি যদি হওন সেই রকমের স্মার্ট, যারা স্মার্টফোন উঁচিয়ে ধরে স্মার্টনেস দেখান, কিংবা সারাদিন ব্যস্ত ব্যস্ত বলে বিশৃঙ্খল জীবন যাপন করেন, কিংবা আপনি যদি হওন পরিবারের খবরটুকু রাখেন না অথচ আপনি বিরাট একজন ফেসবুক বিপ্লবী, কিংবা অসংখ্য কথা দিয়ে বেড়ান রাখতে পারেন না বেশিরভাগই। এমনই যদি আপনি স্মার্ট লোক হওন এই যুগের! আর যদি কানের কাছে বড় বড় কথা বলেন, সেসব কথা বিশ্বাসযোগ্য হবে কি?

অধিকাংশ মানুষরাই আজ এই শ্রেণীতে পড়ে গেছি। বড় বড় কথা বলি। শোনার চেয়ে বেশি বলি। এমন স্মার্টলোকদের শাসন করে শোষণ করা তো সহজই হবে। তাই না?

১৫ আগস্ট শোকদিবস / জন্মউৎসব

শোক দিবসে বিরিয়ানি পোলাও খিচুড়ি এর বদলে জন্মদিনের কেক কাটা কম বিশ্রী লাগে।
অথচ দুইটা জিনিসই বিশ্রীই। ১৫ আগস্ট উদযাপন এবং আয়োজনের ধরণ কেক কাটাকে অধিক বিশ্রী হওয়া থেকে বাঁচায় দিয়েছে।
বলতে বাধ্য হচ্ছি, আওয়ামীলীগ যতনা এই মর্মান্তিক দিনটা কে স্মরণে কিছু করে তার চেয়ে বেশি ভয়ে থাকে খালেদা জিয়ার কেক কাটা নিয়ে। মানে ১৫ আগস্ট তাদের প্রধান ভয়ই হচ্ছে খালেদা জিয়ার কেক!
রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিবোধ তো নাই ই একই সাথে আক্কেলও নাই। অদূর ভবিষ্যৎ এ হবে কিনা তাও নিশ্চিতয়তা নাই। এক ছবিতে দেখলাম বিরিয়ানির প্যাকেটে বঙ্গবন্ধুর ছবি! ক্রিয়েটিভিটি বটে! বিরিয়ানি খাওয়া শেষে সব যাবে ডাস্টবিনে!
আর যত ব্যানার বানানো ঝুলানো হয়েছে, মাশাল্লা প্রয়াত নেতার পাশে হাসোজ্জল সৌজন্যে নেতা! চাঁদার টাকা নিয়ে হাতাহাতিও হচ্ছে পত্রিকায় পড়লাম। বাহ!
স্বয়ং জাতির পিতা যদি কোনভাবে বর্তমান অবস্থা দেখতেন তবে আমার মনে হয় লজ্জাই পেতেন।

মেধাতালিকা এ+ ভালো রেজাল্ট

বিষয়টা নিয়ে আগেও ভেবেছি। আমি কখনই মেধা তালিকা করার পক্ষপাতী নই। মেধার কখনও তালিকা হয় না। জ্ঞান মাপার কোন সুনির্দিষ্ট মাপ কাঠি কি আদৌ আছে?
কোন এক লোক একটা কাজ যেভাবে সম্পাদন করলো অন্য একটা লোক সেই ভাবে কাজ সম্পাদন করবে না। এক একটা সমস্যা সমাধান করার পদ্ধতি এক এক জনের এক এক রকম হবে। কেও কোন কাজে চরম উৎকর্ষতা দেখালে হতে পারে সে অন্য এক কাজে কিছুই জানেন না। কেও কোন এক বিষয়ে অগাধ জ্ঞান রাখলে অন্য একটা বিষয় নিয়ে সেই ই হয়তো কিছুই বলতে পারবে না।
কে কতটুকু জ্ঞান অর্জন করছে তা কি সত্যিই পরিমাপ করা যায়? আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতিতে যে গ্রেডিং করা হচ্ছে তা দিয়ে কি জ্ঞান পরিমাপ করা যায়? না পরবর্তী পড়াশুনার জন্য যোগ্য সেটা প্রমাণ করা যায়?
অদ্ভুত! ছোট ভাই বোনদের রেজাল্ট নয় তাদের ভবিষ্যৎটা ভেবে খুব আতংক লাগছে। A+ পেলে সেখানে ধরা হচ্ছে নিশ্চিন্ত। কিন্তু A+ পাওয়া শিক্ষার্থীটি কি আসলেও অর্জন বলে কিছু বলতে পারবে। আমি বিষয়টাকে সরলভাবে ভাবি সে জীবনের অনিশ্চয়তার জায়গা থেকে সাময়িক মুক্তি পেল। গোল্ডেন পাওয়াতে তাকে আগামী ২ বছর অনেকগুলো বিষয় ভাবতে হবে না। হলেও অন্যভাবে ভাবতে হবে।
আর যে ছেলেটা একটি বা দুটির জন্য গোল্ডেন মিস করলো। তার ঘুম হবে না। তার অনিশ্চয়তার দিন শেষ হবে না। আর তারপর যে কেবল গ্রেড প্রাপ্তরা ছাত্ররা তাদের নিয়ে কেও কি ভাববে? অথচ সংখ্যায় কত এগিয়ে!
কতগুলো ছেলে ফেল করবে, কতগুলো ছেলে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হবে না সেই অনিশ্চয়তায় জীবন নিয়ে কেও কি ভাববে না? তারা কি নাম লেখাবে কেবলই বাতিলের খাতায়?
হাস্যকর ঠেকেবে এই গোল্ডেন ধারীরা যখন আরও এক দফা গোল্ডেন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা যুদ্ধে আসবে। সেখানে কোচিং এর দাপট সেখানে কোটার দাপট সেখানে সব দাপট দেখিয়ে খুবই কিছু সংখ্যক উচ্চ শিক্ষায় আসবে। তারপরও কি অনিশ্চয়তা দূর হবে!
বুয়েট, ঢাবি, মেডিক্যাল থেকে পাস করার পরও একটা ভালো চাকরির নিশ্চয়তা এই ছোট ভাইবোনদের ঘুম কেড়ে নিবে। বাতিলদের না হয় গোনাতেই ধরলাম না। ব্যর্থদের না হয় আলোচনায় আনলাম না।
মানুষ কেবল সফলতার গল্প শুনতে পছন্দ করে। ফেসবুক ব্যস্ত সফল নায়িকা দীপিকা নিয়ে। ফেসবুকের অনেক অংশজুড়ে ব্যস্ত এখন দীপিকাকে নিয়ে। কেও কোন ব্যর্থ দীপিকার গল্প শুনতে ভিড় করবে না। কেও কোন ব্যর্থ দীপিকার দুটি গল্প শেয়ারও করবে না। এই সময়ের মধ্যে ফেসবুকময় ছোট ভাইবোনদের উল্লাস ভরা স্ট্যাটাস এর ঠিক অন্তরালে চাপা পড়ে যাচ্ছে অজস্র ছেলে মেয়ের কান্না ভরা গল্প যা কখনই লেখা হবে না। বলাই আছে, মানুষ কেবল সফলতার গল্প শুনে।
এই সমাজে কোন কিছু করার পর তৃপ্তি পাওয়া যায় না। এখানে মেধা বিচারের মানদণ্ড এই ছেলেটা ওই ছেলে থেকে বেশি নাম্বার পাইছে সেটা। নিজেকে নিজে ছাড়িয়ে যাওয়ার কোন বিষয় নেই। অন্যকে দিয়ে নিজেকে যাচাই করাই হল এখানকার ব্যবস্থা।
তুমি গোল্ডেন A+ পাইছো? আমি বলবো বেশ। পথ আরও মেলা বাকী। জীবনে সব অর্জনই রূপকথা যতক্ষণ না পর্যন্ত তুমি সফল হও।
যদি বলো ফেল করছো? আমি বলবো তাও বেশ। রূপকথায় ঝড় তুফান আসে। সফল হও।

ট্রেন

আমি প্রায়ই একটা ট্রেন এ চড়ি। ট্রেনের শেষ বগিতে একলা আমি বসে। ট্রেনের পরিচিত শব্দ আর দুলুনি আমি টের পাই। আর আতংক লাগে, কেবল মনে হয় আমি যেন আমার স্টেশনটাতে নামতে পারবো না।
আর সেটাই হয়। আমার স্টেশনে ট্রেন থামে না। চলতেই থাকে। আমি আতংকিত হয়ে বগিতে বসে থাকি। ট্রেন চলতেই থাকে। এটা একটু লুপের মতন চলতে থাকে অনেকক্ষণ।
তারপর আমি জেগে উঠি।

সম্পর্কের জটিলতা

অনেক সম্পর্কের জটিলতাগুলোই তো দেখলাম। কত অদ্ভুতভাবে সমাজের চোখে কিংবা পরিবারের চোখে ব্যক্তি সম্পর্কগুলো জটিল হয়ে আছে। এই জটিলতাগুলো এক ধাক্কাতেই দূর করা যায়। ঐ মানুষগুলো কেন জানি জটিলতা টিকিয়ে রেখে কষ্ট পেয়ে যেতেই বরং বেশি আগ্রহী। কি যেন বলে এটাকে কষ্ট থেকে সুখ পাওয়া। অথচ ঐ সম্পর্কের গল্পগুলো কত না সুন্দর হতে পারতো!

১৫ এর পহেলা বৈশাখ!

ছিঃ বললেও গা ঘিন ঘিন করে ওই শুয়োরের বাচ্চাদেরকে। এরা কোন প্রাণীকুলেরই প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা রাখে না। এমন কোন দিবস নাই এরকম ঘটনা ক্রমাগতই ঘটানো হচ্ছে। মানুষ জন ক্রমেই নির্লিপ্ত থেকে নির্লিপ্ত হচ্ছে। তাই হাজারো মানুষের ভিড়ে এইসব ঘটনাগুলো ঘটে যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই তোমার চিত্র? এই তোমার শ্রী?
আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এই তোমাদের মেরুদণ্ডের জোর! বাহ! চমৎকার।
“টিএসসির সামনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেইটের বাইরে যেখানে নারীদের ওপর এই হামলা হয়, সেখান থেকে কয়েক গজ দূরেই গত ফেব্রুয়ারিতে সন্ত্রাসীদের চাপাতির আঘাতে প্রাণ হারান লেখক অভিজিৎ রায়।” বিডিনিউজ
আমি জানতে চাই, দায়িত্ব-রত পুলিশেরা কাদের দায়িত্ব পালন করছেন বর্তমানে? তারা কি জনগণের টাকা খেয়ে ওই সন্ত্রাসীদেরই দায়িত্ব অত্যন্ত সততার সাথে পালন করছে? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর দায়িত্বটা কি?
ওই ইতর শুয়োরদের শাস্তি দেয়ার আগেই এই পুলিশরা কি শাস্তি পাবে না তাদের এই গাফিলতির জন্য?
আর সংবাদপত্র! বলবো কি? প্রতিবাদ করলে হাত ভাঙতে হয় এটাই বুঝে ফোকাস করা লাগে। তার মানে এর পর কেও প্রতিবাদ করলে হাত ভাঙবে তাই প্রতিবাদ করতে যেও না। এসব লুতুপুতু মার্কা রিপোর্ট করা বাদ দিয়ে ওই শুয়োর ইতরদের নাম ধাম আর ছবি প্রকাশ করুন।
আমরা জানতে চাই এই শুয়োরগুলো কারা। জনগণই এদের প্যাকেট করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে না হলে অন্য কোন খানে ঠিকই এদের প্যাকেট করা হবে।

বেশিরভাগরাই কেন জানি একই ভাবে বলে!

বেশিরভাগরাই কেন জানি একই ভাবে বলে! একই রকম ভাবে বলে। বলার ধরণটাও তো স্বকীয় হতে পারে। তা না। কি সমালোচনা, আর কি পর্যালোচনা, কি যুক্তি, কি তর্ক! বেশিরভাগদের কথা বার্তা সুরের মধ্যে ভিন্নতা পাই না।

দুঃখ হচ্ছে শীতের শুষ্ক ঝরা পাতার মতন

দুঃখ হচ্ছে শীতের শুষ্ক ঝরা পাতার মতন। সব দুঃখের পাতাই ঝরা পাতা। শুকনো হতে হবে। দুঃখ যার যত বেশি তার পাতা ততটাই শুষ্ক। ঝরা পাতা তাই ধরতে গেলে সাবধান। কারণ তা স্পর্শকাতর। অল্পতেই ভেঙ্গে যেতে পারে।
সুখটা হচ্ছে কচি সবুজ পাতা। যার পাতা যত সবুজ সে ততটাই সুখি। আর রঙ বেরঙয়ের ফুল হচ্ছে নানা সুখের গল্পসমগ্র। সুখ গল্পসমগ্র লিখতে আগে ঝরা পাতার গল্প শুনতে হয়। তখন শীতকাল আসে। শীতকাল পার হবে ঝরা পাতার দিন শেষে দুঃখগুলো মিলিয়ে যাবে। সবুজ কচি পাতায় নতুন নতুন সুখ দেখা যাবে। বসন্তে হরেক ফুল। সুখের গল্পসমগ্র চলবে আবার পরের শীত পর্যন্ত।