১৫ আগস্ট শোকদিবস / জন্মউৎসব

শোক দিবসে বিরিয়ানি পোলাও খিচুড়ি এর বদলে জন্মদিনের কেক কাটা কম বিশ্রী লাগে।
অথচ দুইটা জিনিসই বিশ্রীই। ১৫ আগস্ট উদযাপন এবং আয়োজনের ধরণ কেক কাটাকে অধিক বিশ্রী হওয়া থেকে বাঁচায় দিয়েছে।
বলতে বাধ্য হচ্ছি, আওয়ামীলীগ যতনা এই মর্মান্তিক দিনটা কে স্মরণে কিছু করে তার চেয়ে বেশি ভয়ে থাকে খালেদা জিয়ার কেক কাটা নিয়ে। মানে ১৫ আগস্ট তাদের প্রধান ভয়ই হচ্ছে খালেদা জিয়ার কেক!
রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিবোধ তো নাই ই একই সাথে আক্কেলও নাই। অদূর ভবিষ্যৎ এ হবে কিনা তাও নিশ্চিতয়তা নাই। এক ছবিতে দেখলাম বিরিয়ানির প্যাকেটে বঙ্গবন্ধুর ছবি! ক্রিয়েটিভিটি বটে! বিরিয়ানি খাওয়া শেষে সব যাবে ডাস্টবিনে!
আর যত ব্যানার বানানো ঝুলানো হয়েছে, মাশাল্লা প্রয়াত নেতার পাশে হাসোজ্জল সৌজন্যে নেতা! চাঁদার টাকা নিয়ে হাতাহাতিও হচ্ছে পত্রিকায় পড়লাম। বাহ!
স্বয়ং জাতির পিতা যদি কোনভাবে বর্তমান অবস্থা দেখতেন তবে আমার মনে হয় লজ্জাই পেতেন।

মেধাতালিকা এ+ ভালো রেজাল্ট

বিষয়টা নিয়ে আগেও ভেবেছি। আমি কখনই মেধা তালিকা করার পক্ষপাতী নই। মেধার কখনও তালিকা হয় না। জ্ঞান মাপার কোন সুনির্দিষ্ট মাপ কাঠি কি আদৌ আছে?
কোন এক লোক একটা কাজ যেভাবে সম্পাদন করলো অন্য একটা লোক সেই ভাবে কাজ সম্পাদন করবে না। এক একটা সমস্যা সমাধান করার পদ্ধতি এক এক জনের এক এক রকম হবে। কেও কোন কাজে চরম উৎকর্ষতা দেখালে হতে পারে সে অন্য এক কাজে কিছুই জানেন না। কেও কোন এক বিষয়ে অগাধ জ্ঞান রাখলে অন্য একটা বিষয় নিয়ে সেই ই হয়তো কিছুই বলতে পারবে না।
কে কতটুকু জ্ঞান অর্জন করছে তা কি সত্যিই পরিমাপ করা যায়? আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতিতে যে গ্রেডিং করা হচ্ছে তা দিয়ে কি জ্ঞান পরিমাপ করা যায়? না পরবর্তী পড়াশুনার জন্য যোগ্য সেটা প্রমাণ করা যায়?
অদ্ভুত! ছোট ভাই বোনদের রেজাল্ট নয় তাদের ভবিষ্যৎটা ভেবে খুব আতংক লাগছে। A+ পেলে সেখানে ধরা হচ্ছে নিশ্চিন্ত। কিন্তু A+ পাওয়া শিক্ষার্থীটি কি আসলেও অর্জন বলে কিছু বলতে পারবে। আমি বিষয়টাকে সরলভাবে ভাবি সে জীবনের অনিশ্চয়তার জায়গা থেকে সাময়িক মুক্তি পেল। গোল্ডেন পাওয়াতে তাকে আগামী ২ বছর অনেকগুলো বিষয় ভাবতে হবে না। হলেও অন্যভাবে ভাবতে হবে।
আর যে ছেলেটা একটি বা দুটির জন্য গোল্ডেন মিস করলো। তার ঘুম হবে না। তার অনিশ্চয়তার দিন শেষ হবে না। আর তারপর যে কেবল গ্রেড প্রাপ্তরা ছাত্ররা তাদের নিয়ে কেও কি ভাববে? অথচ সংখ্যায় কত এগিয়ে!
কতগুলো ছেলে ফেল করবে, কতগুলো ছেলে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হবে না সেই অনিশ্চয়তায় জীবন নিয়ে কেও কি ভাববে না? তারা কি নাম লেখাবে কেবলই বাতিলের খাতায়?
হাস্যকর ঠেকেবে এই গোল্ডেন ধারীরা যখন আরও এক দফা গোল্ডেন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা যুদ্ধে আসবে। সেখানে কোচিং এর দাপট সেখানে কোটার দাপট সেখানে সব দাপট দেখিয়ে খুবই কিছু সংখ্যক উচ্চ শিক্ষায় আসবে। তারপরও কি অনিশ্চয়তা দূর হবে!
বুয়েট, ঢাবি, মেডিক্যাল থেকে পাস করার পরও একটা ভালো চাকরির নিশ্চয়তা এই ছোট ভাইবোনদের ঘুম কেড়ে নিবে। বাতিলদের না হয় গোনাতেই ধরলাম না। ব্যর্থদের না হয় আলোচনায় আনলাম না।
মানুষ কেবল সফলতার গল্প শুনতে পছন্দ করে। ফেসবুক ব্যস্ত সফল নায়িকা দীপিকা নিয়ে। ফেসবুকের অনেক অংশজুড়ে ব্যস্ত এখন দীপিকাকে নিয়ে। কেও কোন ব্যর্থ দীপিকার গল্প শুনতে ভিড় করবে না। কেও কোন ব্যর্থ দীপিকার দুটি গল্প শেয়ারও করবে না। এই সময়ের মধ্যে ফেসবুকময় ছোট ভাইবোনদের উল্লাস ভরা স্ট্যাটাস এর ঠিক অন্তরালে চাপা পড়ে যাচ্ছে অজস্র ছেলে মেয়ের কান্না ভরা গল্প যা কখনই লেখা হবে না। বলাই আছে, মানুষ কেবল সফলতার গল্প শুনে।
এই সমাজে কোন কিছু করার পর তৃপ্তি পাওয়া যায় না। এখানে মেধা বিচারের মানদণ্ড এই ছেলেটা ওই ছেলে থেকে বেশি নাম্বার পাইছে সেটা। নিজেকে নিজে ছাড়িয়ে যাওয়ার কোন বিষয় নেই। অন্যকে দিয়ে নিজেকে যাচাই করাই হল এখানকার ব্যবস্থা।
তুমি গোল্ডেন A+ পাইছো? আমি বলবো বেশ। পথ আরও মেলা বাকী। জীবনে সব অর্জনই রূপকথা যতক্ষণ না পর্যন্ত তুমি সফল হও।
যদি বলো ফেল করছো? আমি বলবো তাও বেশ। রূপকথায় ঝড় তুফান আসে। সফল হও।

ট্রেন

আমি প্রায়ই একটা ট্রেন এ চড়ি। ট্রেনের শেষ বগিতে একলা আমি বসে। ট্রেনের পরিচিত শব্দ আর দুলুনি আমি টের পাই। আর আতংক লাগে, কেবল মনে হয় আমি যেন আমার স্টেশনটাতে নামতে পারবো না।
আর সেটাই হয়। আমার স্টেশনে ট্রেন থামে না। চলতেই থাকে। আমি আতংকিত হয়ে বগিতে বসে থাকি। ট্রেন চলতেই থাকে। এটা একটু লুপের মতন চলতে থাকে অনেকক্ষণ।
তারপর আমি জেগে উঠি।

সম্পর্কের জটিলতা

অনেক সম্পর্কের জটিলতাগুলোই তো দেখলাম। কত অদ্ভুতভাবে সমাজের চোখে কিংবা পরিবারের চোখে ব্যক্তি সম্পর্কগুলো জটিল হয়ে আছে। এই জটিলতাগুলো এক ধাক্কাতেই দূর করা যায়। ঐ মানুষগুলো কেন জানি জটিলতা টিকিয়ে রেখে কষ্ট পেয়ে যেতেই বরং বেশি আগ্রহী। কি যেন বলে এটাকে কষ্ট থেকে সুখ পাওয়া। অথচ ঐ সম্পর্কের গল্পগুলো কত না সুন্দর হতে পারতো!

১৫ এর পহেলা বৈশাখ!

ছিঃ বললেও গা ঘিন ঘিন করে ওই শুয়োরের বাচ্চাদেরকে। এরা কোন প্রাণীকুলেরই প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা রাখে না। এমন কোন দিবস নাই এরকম ঘটনা ক্রমাগতই ঘটানো হচ্ছে। মানুষ জন ক্রমেই নির্লিপ্ত থেকে নির্লিপ্ত হচ্ছে। তাই হাজারো মানুষের ভিড়ে এইসব ঘটনাগুলো ঘটে যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই তোমার চিত্র? এই তোমার শ্রী?
আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এই তোমাদের মেরুদণ্ডের জোর! বাহ! চমৎকার।
“টিএসসির সামনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেইটের বাইরে যেখানে নারীদের ওপর এই হামলা হয়, সেখান থেকে কয়েক গজ দূরেই গত ফেব্রুয়ারিতে সন্ত্রাসীদের চাপাতির আঘাতে প্রাণ হারান লেখক অভিজিৎ রায়।” বিডিনিউজ
আমি জানতে চাই, দায়িত্ব-রত পুলিশেরা কাদের দায়িত্ব পালন করছেন বর্তমানে? তারা কি জনগণের টাকা খেয়ে ওই সন্ত্রাসীদেরই দায়িত্ব অত্যন্ত সততার সাথে পালন করছে? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর দায়িত্বটা কি?
ওই ইতর শুয়োরদের শাস্তি দেয়ার আগেই এই পুলিশরা কি শাস্তি পাবে না তাদের এই গাফিলতির জন্য?
আর সংবাদপত্র! বলবো কি? প্রতিবাদ করলে হাত ভাঙতে হয় এটাই বুঝে ফোকাস করা লাগে। তার মানে এর পর কেও প্রতিবাদ করলে হাত ভাঙবে তাই প্রতিবাদ করতে যেও না। এসব লুতুপুতু মার্কা রিপোর্ট করা বাদ দিয়ে ওই শুয়োর ইতরদের নাম ধাম আর ছবি প্রকাশ করুন।
আমরা জানতে চাই এই শুয়োরগুলো কারা। জনগণই এদের প্যাকেট করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে না হলে অন্য কোন খানে ঠিকই এদের প্যাকেট করা হবে।

বেশিরভাগরাই কেন জানি একই ভাবে বলে!

বেশিরভাগরাই কেন জানি একই ভাবে বলে! একই রকম ভাবে বলে। বলার ধরণটাও তো স্বকীয় হতে পারে। তা না। কি সমালোচনা, আর কি পর্যালোচনা, কি যুক্তি, কি তর্ক! বেশিরভাগদের কথা বার্তা সুরের মধ্যে ভিন্নতা পাই না।

দুঃখ হচ্ছে শীতের শুষ্ক ঝরা পাতার মতন

দুঃখ হচ্ছে শীতের শুষ্ক ঝরা পাতার মতন। সব দুঃখের পাতাই ঝরা পাতা। শুকনো হতে হবে। দুঃখ যার যত বেশি তার পাতা ততটাই শুষ্ক। ঝরা পাতা তাই ধরতে গেলে সাবধান। কারণ তা স্পর্শকাতর। অল্পতেই ভেঙ্গে যেতে পারে।
সুখটা হচ্ছে কচি সবুজ পাতা। যার পাতা যত সবুজ সে ততটাই সুখি। আর রঙ বেরঙয়ের ফুল হচ্ছে নানা সুখের গল্পসমগ্র। সুখ গল্পসমগ্র লিখতে আগে ঝরা পাতার গল্প শুনতে হয়। তখন শীতকাল আসে। শীতকাল পার হবে ঝরা পাতার দিন শেষে দুঃখগুলো মিলিয়ে যাবে। সবুজ কচি পাতায় নতুন নতুন সুখ দেখা যাবে। বসন্তে হরেক ফুল। সুখের গল্পসমগ্র চলবে আবার পরের শীত পর্যন্ত।

গন্ধ এর নাম

আমাদের নানা রকম রঙ এর নাম হয়। যেমন: লাল রঙ নীল রঙ বা সবুজ রঙ। স্বাদেরও রকম ফের আছে। শব্দ দিয়ে বলা যায়। যেমন ঝাল মিষ্টি বা টক। কিন্তু নানা রকম গন্ধ এর জন্য কি শব্দ আছে? যেমন গোলাপ ফুলের যে সুবাস সেটাকে কি বলে? কিংবা গোলাপের সুবাস তো হয় অনেক রকম। একেক জাতের গোলাপের এক এক সুবাস। আলাদা আলাদ নাম কি আছে? কিংবা এমন একটা শব্দ যা বললে বুঝতে পারবো সেই গন্ধটাকেই বলা হচ্ছে?

কোন একটা গন্ধ নামকরণ করতে হলে বলতে হয় অমুক ফুলের গন্ধ। এমন কিছু কি নেই যা বললে গন্ধটাকে সংজ্ঞায়িত করা যায়? আর যদি নানা রকম গন্ধের নামকরণ না করা হয়ে থাকে, আমরা করতে পারি 🙂