এখনও

এখনো চড়ুইরা চেষ্টা করে,
বারান্দার চতুষ্কোণে,
বাঁধতে ছোট্ট এক খানি বাসা।

এখনো কাকেরা চেষ্টা করে,
নগরের আবর্জনা খেয়ে নিয়ে,
পরিচ্ছন্নতার সর্ব চেষ্টা।

এখনো কুকুরেরা চেষ্টা করে,
নগরের রাত বিরাতে,
পাহারা দিয়ে সাধ্য মতন নিরাপত্তা।

আর মানুষেরা!
এখন মানুষ ভুলে গেছে,
স্বপ্ন মাখা চোখ নিয়ে এককালে
সেই ছিল এই নগরের স্রষ্টা।

খসড়া ১.০ / ১৫-০৮-১৫

সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে

সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে
তোমার আমার বলার থাকবে না কিছু
তোমার আমার করার থাকবে না কিছু

সব কিছুই হারিয়ে যাবে
তোমার আমার খোঁজার থাকবে না কিছু
তোমার আমার পাবার থাকবে না কিছু

খসড়া ১.০ / ৯-০৮-১৫

বন্য শুয়োর

কিছু অসভ্য বন্য শুয়োর আজ ঢুকে গেছে,
মানুষের সমাজে,
দেখতে অবিকল মানুষ ই ওরা!
তিন বেলা ঠিকই খায়,
তার সাথে মিশিয়ে খায়,
বাচ্চা শিশুর বীভৎস মৃত্যু!
আর আমাদের জনপ্রতিনিধি,
মানুষ সভ্য করতে গিয়েছে নাকি আফ্রিকা!!

খসড়া ১.০ / ০৪-০৮-১৫

পৃথিবীটা ভালো নেই

পৃথিবীটা ভালো নেই
সহস্র বছরের বিবর্তনে সভ্যতা গড়েনি
গড়েছে অসভ্যতার অন্ধকার,
হিংস্রতা-ঘৃণা-লোভ মানুষে মানুষে,
যুদ্ধ-মৃত্যু মানে ছাড়া পুরনো প্রাচীন ধ্বংস যজ্ঞ
ফিরে আসে বারবার।

সময়টা হতে পারত সবুজে সবুজে
শিশুরা খেলবে মাঠে
প্রেমিক প্রেমিকারা দুটি হাত ধরে স্বপ্ন বুনবে
বন্ধুরা মাতবে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে

তা না হয়ে,
পৃথিবীটা বড় অশান্ত, উত্তপ্ত
পৃথিবীটা ভালো নেই।

সংগীতের করুণ সুর রক্তাক্ত করে আমায়,
ভায়োলিনের তীক্ষ্ণতা টুকরো টুকরো হৃদয়,
এক চিলতে ফাকা নীল আকাশ বুকের ভেতরে জন্ম দেয় হাহাকার,
বিকেলের হলুদে রোধ ঢেলে দেয় বিষণ্ণতার ভার,

আমি ক্লান্ত, সত্যি খুব ক্লান্ত
দুর্ভাগা মানুষ প্রজাতির একজন হয়ে
পৃথিবীটাকে আর অনুভবে নিতে পারি না
পৃথিবীটা ভালো নেই।

আমি জানি

আমি জানি,
একদিন আমিও কারো ব্যথার কারণ হবো।
আমার জন্যে,
একদিন কারো দু’চোখ বয়ে গড়াবে জল।
আমি জানি,
এই নশ্বর পৃথিবীতে অনেক কিছুরই মানে নেই।
আমার জন্যে,
চিরদিনই মানে খুঁজে পাওয়া অর্থহীন।
তারপরও আমি,
পৃথিবীতে একজন চূড়ান্ত বিকারগ্রস্ত।
যার জন্য,
কেও নিশ্চিত নয়, নিশ্চয়তা সুদূরপরাহত।

খসড়া ১.০ / ১০-০৫-১৫

তোমাদের ভাবনায় আমার

তোমাদের ভাবনায় আমার ভাবনাগুলো অবাঞ্ছিত
মোটা দাগের স্বপ্নগুলো গোত্তা খাওয়া ঘুড়ি
তোমাদের ভাবনাগুলো স্বপ্ন বুনে রঙিন ক্যানভাসে
আর আমার! সেতো পাথর আর সমুদ্রের নুড়ি!

খসড়া ১.০ / ০৪-০৫-১৫

প্রতারিত মানুষ

আমি ক্রমশ ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলছি এই ধরণীতে
অস্থির আর অসহনশীলতা গ্রাস করে নিচ্ছে আমায়
আমি বিরক্ত, ঘৃণায় আমার মুখে আসে কেবল দলা দলা থু থু
মুখ উগড়ে বমি চলে আসে ওই অযোগ্য শুয়োর শাসকদের প্রতি

আমি বুক ভরে শ্বাস নিতে পারি না, আমি গেলাশ ভরে নিরাপদ জল পাই না
আমি পাই নর্দমা থেকে উঠে আসা কুৎসিত কালো পানি

আমি সরল মনে কইতে পারি না মনের অব্যক্ত কথা গুলি
আমি ছটফট করতে থাকি আড্ডায়, মানুষের ভিড়ে
না বলা কথা গুলো খামচে ধরে আমার ধমনীতে

এই ধরণীতে চরম ভাবে আজ আমি প্রতারিত
আমি লাঞ্ছিত হয়ে অপমানিত হয়ে
মানুষ পরিচয় আকড়ে ধরার চেষ্টা করি।

থসড়া ১.০ / ২২-০৩-১৫