ভালোবাসা মানে এই না কেবলই শব্দ, ভালোবাসা মানে একটু নির্মলতা

বাস চলছে। একটু পর পর ই থামে। যাত্রী উঠে। সিট খালি থাকে। সিট দখল হয়। সীমিত সিটের জন্য সবার ভাগ্যে সিট জোটে না। যেতে হয় দাড়িয়ে অনেককেই। তাই বুদ্ধিমান(!) সেই, যে সবাইকে ফাঁকি দিয়ে সিট দখল করতে পারে। এই চালাকিটুকু যে জানে না, সে হয় বোকা। সিট দখল করতে গিয়ে আমরা অজান্তেই শিখছি ঘৃণা করা। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা হারানো শিখছি, খুব ধীরে ধীরে। একটা সিট না পেলে, যে চালাকি করে সিট দখলে নিলো, তার প্রতি তীব্র ঘৃণা আর ক্ষোভ পুষতে শিখছি। কখনো তর্ক জুড়ে দিচ্ছি, বা কখনো ঝগড়া শুরু করে দিচ্ছি। মন হচ্ছে হিংসাতে পূর্ণ। তবে প্রক্রিয়াটা খুব ধীরে হচ্ছে। একই ব্যাপার ঘটছে প্রচন্ড ভিড়ের মধ্যে প্রায় যুদ্ধ করে গাড়ী উঠার সময়ও।
Continue reading…

স্নেহার কীবোর্ড

Mahtab ভাইদের বাসায় গিয়েছিলাম আমার একটা কাজ বুঝে নিতে। ভাইদের বাসায় সবচেয়ে ছোট সদস্য স্নেহা। সারা দিন শয়তানি দুষ্টুমি হৈ হল্লোড় করে। কিন্তু আমি গেলেই মুখ বন্ধ। একদম চুপ। তখন দুষ্টুমি করে অল্প অল্প। আমি জানতাম না ঐ সময় স্নেহার ভাত খাবার সময়। ভাত খাবার সময় সে আবার তার পাশের ফ্লাটের বারান্দায় আসা বন্ধু বান্ধবীদের সাথে গল্প করতে করতে খায়। আন্টি খাওয়াই দিচ্ছিল আমি থাকায় সে কথা বলছিল না। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল দুহাত রেলিং ঝুলিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে 🙁 ব্যাপার টা বুজে আমি অন্য রুমে চলে গেলাম। 🙂 ছোট মানুষদের কত রকম গল্প যে থাকতে পারে ভাবতেছিলাম।
Continue reading…

অন্তরার জন্মদিন এবং ভোজন গল্প

৯ তারিখ ছিল অন্তরার জন্মদিন! আমি আবার অন্তরার মামা চাচা দুটিই হই। সংক্ষেপে মাচ্চু 😛 জন্মদিনের ঘরোয়া অনুষ্ঠান বেণুকা আপা করলেন, পরদিন ১০ তারিখ। আমি গেলাম। ব্যাপক আনন্দ মজা হল। অন্তরার সাথে খেলাধুলা করা হল। বিমান চালানো, গল্ফ খেলা সবই হল। 🙂 ফটোসেশন হলো। গড়ে তিন জনের মধ্যে একজনের একটা করে ক্যামেরা। আমি লজ্জা পেয়ে আর মোবাইলের ক্যামেরাটা বের করি নাই 😀

অন্তরা তার বান্ধবী স্নেহাকে নিয়ে ৩টা মোমবাঁতি তিন বারে ফুঁ দিয়ে নেভালো। আমরা তালি দিলাম। এবার কয়েক ধাপে চললো ছবি তোলা। এত এত ছবি তোলার পরও আমাদের দোলা আপার ছবি তোলায় মন ভরে নাই। তিনি আরো ছবি তুললেন। আমি একটা ক্যামেরা ধার করে পোট্রেট তোলার চেষ্টা করলাম। মজার মজার ছোট ছোট কান্ড ঘটলো যা লেখাতে বুঝানো সম্ভব নয়। 🙂
Continue reading…

খানা দানা সারাদিন

আজকে মানে গতকাল আম্মু আম আর কাসুন্দি দিয়ে মাখিয়ে খাওয়াইছিল। মনটা ফুরফুরে লাগছিল। বিকাল পর্যন্ত কাজ করছিলাম। ঝিমুনি চলে আসে। ভাবলাম কফি কিনে আনি। দোকানে যেতে যেতে এক বড় ভাইকে দিলাম ফোন। তিনি বললেন বাসায় চলে আসো, কাজ করতেছি।

গেলাম। কেমিক্যাল মুক্ত আম খেলাম। 🙂 অতপর সালাম ডেইরির মিষ্টি আর সুরা গিলতে গিলতে কাজ করছিলাম। ভাইয়ের এক্সেল শীট এ সংখ্যা উঠাইতে উঠাইতে প্রয়োজন হল স্ট্যাপলার পিনের। বড় ভাইয়ের সাথে নিচে নেমে প্রথমে খেলুম সবজি পরোটা। তারপর খেলুম সালাম ডেইরির সেই রকম মিষ্টি 🙂 বাসায় আসার পর কারেন্ট নাই। বড় ভাই নিজের হাতে আম ছেইচ্চা সরবত বানাইয়া দিলেন। তাদের দক্ষিণা বারান্দায় বসে আমের জুস পান করতে থাকলাম। কারেন্ট আসার পর বিরতিতে আবার চা!

সবশেষে বাসায় ফেরার সময় হয়ে আসছে, রাতে খানা খেয়েই এলুম। রুই মাছের মাথা রান্না এবং সেই রকম একটা ডাল! এক কথায় অসাধারণ। 😀

মুগদা এসে বন্ধু দরিদ্রকে ফোন দিলাম। দরিদ্র ওয়াপদাগলির এক মাথা থেকে আরেক মাথায় দৌঁড়াইতেছে। কারণ তার বাসায় খানা নাই :/ আন্টি গেছে গাজীপুর 🙂
আমার আজকের খাবার ফিরিস্তি শুনে স্বভাবতই দরিদ্র এর মন খারাপ 🙁 দরিদ্রকে ভালো বুদ্ধি দিলাম বড় বাজার ছোট খাবারের দোকানটাতে খেতে। সেকথা রাখলো না। সে বড় বাজার বড় হোটেলে বড় বোয়াল মাছ অর্ডার করলো। যথারীতি যা হবার তাই। এক প্লেট কষ্ট করে লেবু কচলিয়ে কোন মতে খেয়ে সিপিতে বসে ফান্টা দিয়ে পেট ভরতে হল শেষমেশ। হাফ সাইজের ফান্টা সম্রাট আমি আর দরিদ্র তিনভাগ করে খাবার পরও দরিদ্র আরো ছোট দুটি ফান্টা পান করলো। তার ভাষ্যমতে, বিজয়ীরা একই কাজ ভিন্নভাবে করে। যেহেতু আমরা একবার ফান্টা খেলাম সেহেতু তার ফান্টা খেতে হবে তিনবার 🙂

সবশেষে, ১০ টাকায় ২টা মশার কয়েল কিনে বাসায় আসলাম।

হায় পানি হায় পানি

কারো বাসায় টলটলে পানি দেখলে হিংসা লাগে !!! হিংসা হিংসা লাগে ! টলটলে পানি দিয়ে কি সুন্দর গোসল করা যায়। মুখ ধোঁয়া যায়। আর আমাদের পানি দুর্গন্ধ। ময়লা। আঁশটে আঁশটে ভাব। বমি চলে আসে।

জরাক্রান্ত দিপুদের বাসা ফরিদাবাদ। আমাকে গল্প করে বলে, লোটন ভাই বাসায় আসেন। সেইরকম ঠান্ডা পানি। টলটলে পানি। গোসল কইরা যান। একদা মানুষ, খানা দানা খাইতে দাওয়াত দিত। এখনো দেয়। কিন্তু টলটলে পানি দিয়ে গোসল করার দাওয়াতও দেয়া শুরু হৈছে।
Continue reading…

আপনারা মাথাওলা লোক একটু চিন্তা ভাবনা করিয়েন। একটু মগজ গলাইয়া দিয়েন।

ফেসবুকের একাউন্ট খুলতে নূন্যতম বয়স লাগে ১৩ বছর। আর গুগল একাউন্ট খুলতেও লাগে ১৩ বছর। তবে, নেদারল্যান্ড এর লোকজনের বয়স মনে হয় বাড়ে একটু দেরিতে। তাদের ১৬ বছর না হলে একাউন্ট খুলতে পারেন না।

ঘটনা হচ্ছে, আমাদের দেশের ছোট ভাই বোন রা একাউন্ট করেন। সাধারণত ১৩ বছর এর আগে একাউন্ট করতে গেলে তারা জন্মসালটা বাড়িয়ে দেন। যেমন, এক ছোট ভাই ক্লাশ ৮ এ পড়ে। তার বয়স আসে ১২ বছর। সে একাউন্ট করার জন্যই বয়স দিছে ১৯৮০!!!

Continue reading…

বিষ্ঠাপচা সিগারেট

কি বলবো! যখন গ্রামের বাড়ি ছিলাম, বাড়ির পাশের কোন রাস্তা দিয়ে হেটে গেলে কোন না কোন ফুলের গন্ধ কিংবা গাছের ঘ্রাণ পেতাম। একটা সুখ সুখ অনুভূতি হত। তবে তখন অনুভূতিটা নিয়ে ভাবতাম না। ওটা স্বাভাবিক ছিল। এখন এর অভাববোধ করি। একটু সুঘ্রাণ এর প্রচন্ড অভাববোধ করি এই ঢাকাতে।

ঢাকার অলিগলি চিপা চাপা রাস্তায় প্রতিটি জায়গায় সুঘ্রাণ না থাকলেও ঘ্রাণ রয়েছে। আর তা হচ্ছে বিষ্ঠাপচা সিগারেট এর ঘ্রাণ। আবার সেই ঘ্রাণ এক শ্রেণীর মানুষ সেবনও করেন নিত্যদিনকার রুচি হিসাবে! অদ্ভুদ।

কে বিষ্ঠা খেলো আর কে খেলো না সেটা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু পাশের জনের জন্য রাখা একটু নির্মল বায়ু নষ্ট করার অধিকারটুকু বিষ্ঠাপচা সিগারেট সেবনকারীকে কে দিলো?

আমাদের শ্রদ্ধাবোধ, বিনয় পায়ের নিচে থাকে। গরমে পানির জন্য ওষ্ঠাগত থাকলেও, নানা সমস্যায় জর্জরিত থাকলেও কি আছে ভাবার! আয়েসি ভঙ্গিতে হাতের দু আঙ্গুলে ভিতরে সিগারেট টা রেখে একটা ফুকে দেয়া অনেকের কাছে আর্ট কিংবা ক্রেজ! আর সিগারেট এর বিষ্ঠাপচা হজম করতে না পারলে দূরে গিয়া মর!

যুগটা এখন লুকিয়া থাকা অসভ্যদেরই।

আত্মহত্যা সংবাদ

– ট্রেনে কাটা পড়ে কিশোরের মৃত্যু, চিরকুট উদ্ধার
– আমার লাশটি আঞ্জুমানে পৌঁছে দেবেন
– খিলগাঁওয়ে যুবকের আত্মহত্যা বেকারত্বের হতাশা থেকে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ
(বাংলামেইলে পড়া গত ২দিনের একটি সংবাদের শিরোনাম)

সব প্রসংগ নিয়ে সিকুয়েল নিউজ করতে হবে তা ঠিক নয়। আত্মহত্যার মতন বিষয়গুলো খুব সেন্সসেটিভ। নিউজ করার আগে ভাবা উটিত, এই নিউজটা কেবলই সংবাদ হচ্ছে, না নতুন আরেকজন হতাশায় নিমজ্জিত কাওকে প্রণোদিত করছে আত্মহত্যায়। সংবাদ মাধ্যমগুলো কি ম্যাসেজ দিতে চায় আমি বুজতে পারি না। হতে পারে এটা আমার সমস্যা। আমি কম বুজি। আমারও জানা নাই, এই ধরণের সংবাদগুলো কিভাবে পরিবেশিত হতে পারে! এই বিষয়ে বিশিষ্ট কলাম লেখকরা কি কলম ধরবেন। একটা বিস্তারিত লেখা লিখবেন। এতো হতাশায় ভিড়ে, আশার আলো তো আছে! সেই আশার আলো দেখিয়ে কয়টা রিপোর্ট করা হয় পত্রিকায় সেটাই আমার প্রশ্ন।

একটা মৃত্যুতে ৩টা রিপোর্ট হলে, বিনোদন আর খেলার পাতা না ভরে লাইফ স্টাইল জাতীয় লেখা না ভরে এমন কিছু সংবাদ করা যা সত্যি ই উৎসাহিত করবে। উদ্দীপনা দিবে। ভালো ভালো সংবাদগুলো প্রমোট করা দরকার। আমার টাকা পয়সা থাকলে এমন একটা পত্রিকা বের করতাম যেখানে ৯০ ভাগ থাকতো মানুষের ভালোর খবর। আর ১০ ভাগ থাকতো কেবল অন্যান্য খবর। কারো যদি বেশি জানার দরকার হত ঘেটে জেনে নিলেই পারবে।

সব কিছু নিয়ে পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর চিন্তা ঠিক নয়। কিছু দায়বদ্ধতা থাকেই। সেটা উপেক্ষা করে চলা যায় না।

ভুল সংবাদ এবং আতংক সৃষ্টি

চট্টগ্রাম বিভাগকে শুনলাম ছুড়ি দিয়ে কেটে আলাদা করা হবে! আলাদা রাষ্ট্র হবে চট্টগ্রাম! চট্টগ্রাম দখল করতে মায়ানমার লঙ্গি পড়ে প্রস্তুত! অনেকগুলো অনলাইন পত্রিকা রিপোর্ট করছে এই গত দিনে। আমি পড়েছি আরো ২-৩ দিন আগে। চট্টগ্রামের একটা লোকাল অনলাইন পত্রিকায়। অনলাইন পত্রিকায় আমার আস্থা আরেক ধাপ নেমে গেল। কোন পত্রিকায় ঠিক ঠাক অনুসন্ধান না করেই লিখে দিলো। যার তথ্যসূত্র গ্রহণযোগ্যতা দেখাতে পারে নাই কেই ই। মায়ানমারের এক নিউজ সাইট সেটাও অনলাইন বার্মা নিউজ.কম এ এরূপ নিউজ কে তারা সূত্র ধরেছে কেও কেও।
Continue reading…