আয়না

আয়না। সামনে দাড়ালে অবিকল আপনার প্রতিবিম্ব তৈরি করে দেখাবে। এতটুকু খুত থাকবে না। আপনি যা তাই দেখাবে। এর জন্য আমরা এতটুকু অবাক হই না। কিন্তু কোন শিল্পী যদি অবিকল আপনাকে একে ফেলে, অবাক হন। আনন্দের সীমা থাকে না। 🙂 কিংবা কাঁচা হতে মোটামুটি চিনতে পারা যায় এমন চেহারা আকলেও আরেব্বাস!!! শিল্প হয় ধন্য 🙂 অথচ, একদম অবিকল আপনাকে দেখিয়েও আয়না কোন প্রতিদান চায় না। পায় ও না। কারণ এটা আয়নার বৈশিষ্ট্য। আঁকা আঁকি নিয়ে ভাবছি। সবই মহান আলোর কৃপা। ওই যে আয়নাতে ছবি প্রতিবিম্ব তাও আলোর কৃপা। এজন্য আলোকে ধন্যবাদ দেয়া হয় না।

আমার স্বপ্নের গ্রাম :: ভাবনা – ১

আমি বেশিদিন এই শহরে থাকবো না। গ্রামে চলে যাবো। সিদ্ধান্ত চূড়ান্তই। আমার ফিরে যাওয়া গ্রামটা হবে, ঘুম স্বপ্নে দেখা ছবির মতন। বাসার উঠান পর্যন্ত চলে যাবে পিচ ঢালা রাস্তা। উঠান হবে মবুজ ঘাসে মোড়ানো কার্পেট। পিচ ঢালার রাস্তার দুপাশে থাকবে সবুজে ক্ষেত। দূর দূরান্ত পর্যন্ত। একটু পর পর থাকবে ছায়াদার গাছ। কৃষকদের দেখা যাবে মাঠে কাজ করতে। ক্লান্তি থাকবে। কিন্তু সুখ থাকবে। পথে একটু পর পর ঝিরিয়ে নিতে থাকবে, বাঁশের তৈরি বেঞ্চ। ছোট ছোট দোকানগুলো থাকবে। সিগারেট বিক্রি হবে না। মাদক বিক্রি হবে না। চা থাকবে। রঙ চা, দুধ চা। গ্রামেরই কোন ঘরে বানানো মুআ থাকবে। মুড়ির মুআ, চিড়ার মুআ, চাল ভাজা মুআ। পিঠাও থাকতে পারে। এই ছোট দোকানগুলোর সাথে থাকবে কাঁচের আলমারি। ভেতরে রাখা হবে বই। তালা থাকবে দোকানদারের কাছে। ছোট কটি টেবিল বেঞ্চ জড়ো করে দেয়া হবে। কেও চা খাবে। কেও বই পড়বে। কেও পত্রিকা পড়বে। দোকানদারের মুখে থাকবে হাসি। প্রবীণরা রাজনীতি নিয়ে জড় তুলবেন। নবীনরা শুনবেন। বিজ্ঞান-সাহিত্য নিয়ে তুমুল আলোচনা হবে।
Continue reading…

দীর্ঘ ব্যস্ততা সারাদিন

গতকাল রাতে ১০ টায় এক ক্লায়েন্ট এর সাথে মিটিং ছিল। মিটিং করতে ইস্কাটন যাবার পথে, শাহবাগে ব্যাপক জ্যাম। হেটে যেতে হলো। মিটিং এ পৌছাই রাত সাড়ে ১১ টার দিকে। খুব ক্লান্ত হয়ে রিকশায় ফিরলাম মুগদায়। সাথে ছিল দিপু। না খাইয়ে দিপুকে ছাড়া যায় না। রাত বাজে তখন ১টা। সব খাবার দোকান বন্ধ। এসময় হুমায়ূন আহমেদের হিমু বেঁচে থাকলেও, মধ্যরাতে কোন খানা দানা জোগাড় করতে পারতো কিনা আমার সন্দেহ! তবে, মুগদা এমন এক জায়গা সেখানে সবই সম্ভব। অনুমান ঠিক ছিল। আল্লার দানে তেহারী পাইলাম। গরম গরম তেহারী খেলাম। দিপুকে রিকশায় উঠিয়ে দিয়ে বাসায় রাত দেড়টায়, ভাবলাম একটু জিরিয়ে নেট এ বসবো। ঐ জিরিয়ে নেয়ার সময় চোখ বন্ধ করছি উঠে দেখি সকাল হয়ে গেছে!!!
Continue reading…

আমি ভীরু লজ্জিত

আমি ভীরু লজ্জিত
আমার মতন কাপুরুষ
সমবেদনা দেখানোর যোগ্যতা রাখে না
আমি স্বার্থপরের মতন বাসায় আরাম কেদারায় বসে
নিজের মিথ্যা দর্শন দুঃখ দেখাতে পারি না।
আমি সৌভাগ্যবান, কোন গ্রেনেড-ড্রোন এসে আমাকে ক্ষতবিক্ষত করছে না
আমার হাত, পা দেহ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হচ্ছে না
আমি অচেনা অসংখ্যা শিশুর
ওই নগ্ন রক্ত মাখা টুকরো টুকরো হওয়া লাশ দেখে
ভদ্রলোকের মতন দুঃখী দুঃখী ভাব নিতে হচ্ছে
আমি সেই মুখেই, আমার মুখে থুথু দেই।

নগরের জোনাক পোকা

সন্ধ্যে হলেই যেতাম জোনাক পোকা দেখতে
এই নগরেই, যেখানে নগরের আলো পৌছাতো না
অনেক অনেক জোনাক পোকা যখন ঝিলমিল করতো
মনে হত আকাশের তারাগুলো পায়ের কাছে।

অপার্থিব অনুভূতির উপমা হবে না কখনো
সেই জোনাক পোকারা আজ আর নেই
আকাশের তারাগুলোও দৃষ্টিসীমায় আসে না
পৌছে গেছে নগরের কুৎসিত আলো।

অনেক অনেক জোনাক পোকার অনুপস্থিতি
নিঃসঙ্গ মনের ভেতর অব্যক্ত ব্যথা,
কাওকে বলা যায় না
অথচ নগরের কুৎসিত আলোতে-
সবাই বয়ে চলে, চলছে, চলবে।

ড্রাফট ১.০

আপনার ছেলেটাকে একটা ছোট্ট দেখে লাল টুকটুকে ফুটবল কিনে দেন

অনেক আগের কথা। ছোট বেলার কথা। সব মনে নাই। আব্বু মাঝে মধ্যেই দেরি করে ফিরতেন। অন্য বাবাদের মতন, আব্বুও আমার জন্য এটা ওটা কিনে আনতেন। একবার এক রাতে কিনে আনলেন ফুটবল। বড়দের ফুটবলের মতন ছিল না ওটা। নরম চামড়ার ছিল। একটা গন্ধ ছিল সেটা এখনো মনে করতে পারি। ফুটবলটার রং ছিল লাল। সাদা-কালোর বদলে ছিল পঞ্চভুজ আকৃতির লাল-কালো। তখন ঢাকাতে আসছি নতুন। তেমন কাওকে চিনি না। মিশিও না কারো সাথে। মিশতে বারণ ছিল বাইরের সবার সাথে। ছেলে ধরার উৎপাত ছিল। হারিয়ে যাবার ভয় ছিল। খেলার জায়গা ছিল ছোট্ট বারান্দা। আপুরা থাকতো টাংগাইল। ছোটন তখনও আসেই নাই। আমি একলা গোল পোস্ট বানিয়ে খেলতাম। কখনও আব্বু সাথে থাকতো।
Continue reading…