মেধাতালিকা এ+ ভালো রেজাল্ট

বিষয়টা নিয়ে আগেও ভেবেছি। আমি কখনই মেধা তালিকা করার পক্ষপাতী নই। মেধার কখনও তালিকা হয় না। জ্ঞান মাপার কোন সুনির্দিষ্ট মাপ কাঠি কি আদৌ আছে?
কোন এক লোক একটা কাজ যেভাবে সম্পাদন করলো অন্য একটা লোক সেই ভাবে কাজ সম্পাদন করবে না। এক একটা সমস্যা সমাধান করার পদ্ধতি এক এক জনের এক এক রকম হবে। কেও কোন কাজে চরম উৎকর্ষতা দেখালে হতে পারে সে অন্য এক কাজে কিছুই জানেন না। কেও কোন এক বিষয়ে অগাধ জ্ঞান রাখলে অন্য একটা বিষয় নিয়ে সেই ই হয়তো কিছুই বলতে পারবে না।
কে কতটুকু জ্ঞান অর্জন করছে তা কি সত্যিই পরিমাপ করা যায়? আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতিতে যে গ্রেডিং করা হচ্ছে তা দিয়ে কি জ্ঞান পরিমাপ করা যায়? না পরবর্তী পড়াশুনার জন্য যোগ্য সেটা প্রমাণ করা যায়?
অদ্ভুত! ছোট ভাই বোনদের রেজাল্ট নয় তাদের ভবিষ্যৎটা ভেবে খুব আতংক লাগছে। A+ পেলে সেখানে ধরা হচ্ছে নিশ্চিন্ত। কিন্তু A+ পাওয়া শিক্ষার্থীটি কি আসলেও অর্জন বলে কিছু বলতে পারবে। আমি বিষয়টাকে সরলভাবে ভাবি সে জীবনের অনিশ্চয়তার জায়গা থেকে সাময়িক মুক্তি পেল। গোল্ডেন পাওয়াতে তাকে আগামী ২ বছর অনেকগুলো বিষয় ভাবতে হবে না। হলেও অন্যভাবে ভাবতে হবে।
আর যে ছেলেটা একটি বা দুটির জন্য গোল্ডেন মিস করলো। তার ঘুম হবে না। তার অনিশ্চয়তার দিন শেষ হবে না। আর তারপর যে কেবল গ্রেড প্রাপ্তরা ছাত্ররা তাদের নিয়ে কেও কি ভাববে? অথচ সংখ্যায় কত এগিয়ে!
কতগুলো ছেলে ফেল করবে, কতগুলো ছেলে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হবে না সেই অনিশ্চয়তায় জীবন নিয়ে কেও কি ভাববে না? তারা কি নাম লেখাবে কেবলই বাতিলের খাতায়?
হাস্যকর ঠেকেবে এই গোল্ডেন ধারীরা যখন আরও এক দফা গোল্ডেন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা যুদ্ধে আসবে। সেখানে কোচিং এর দাপট সেখানে কোটার দাপট সেখানে সব দাপট দেখিয়ে খুবই কিছু সংখ্যক উচ্চ শিক্ষায় আসবে। তারপরও কি অনিশ্চয়তা দূর হবে!
বুয়েট, ঢাবি, মেডিক্যাল থেকে পাস করার পরও একটা ভালো চাকরির নিশ্চয়তা এই ছোট ভাইবোনদের ঘুম কেড়ে নিবে। বাতিলদের না হয় গোনাতেই ধরলাম না। ব্যর্থদের না হয় আলোচনায় আনলাম না।
মানুষ কেবল সফলতার গল্প শুনতে পছন্দ করে। ফেসবুক ব্যস্ত সফল নায়িকা দীপিকা নিয়ে। ফেসবুকের অনেক অংশজুড়ে ব্যস্ত এখন দীপিকাকে নিয়ে। কেও কোন ব্যর্থ দীপিকার গল্প শুনতে ভিড় করবে না। কেও কোন ব্যর্থ দীপিকার দুটি গল্প শেয়ারও করবে না। এই সময়ের মধ্যে ফেসবুকময় ছোট ভাইবোনদের উল্লাস ভরা স্ট্যাটাস এর ঠিক অন্তরালে চাপা পড়ে যাচ্ছে অজস্র ছেলে মেয়ের কান্না ভরা গল্প যা কখনই লেখা হবে না। বলাই আছে, মানুষ কেবল সফলতার গল্প শুনে।
এই সমাজে কোন কিছু করার পর তৃপ্তি পাওয়া যায় না। এখানে মেধা বিচারের মানদণ্ড এই ছেলেটা ওই ছেলে থেকে বেশি নাম্বার পাইছে সেটা। নিজেকে নিজে ছাড়িয়ে যাওয়ার কোন বিষয় নেই। অন্যকে দিয়ে নিজেকে যাচাই করাই হল এখানকার ব্যবস্থা।
তুমি গোল্ডেন A+ পাইছো? আমি বলবো বেশ। পথ আরও মেলা বাকী। জীবনে সব অর্জনই রূপকথা যতক্ষণ না পর্যন্ত তুমি সফল হও।
যদি বলো ফেল করছো? আমি বলবো তাও বেশ। রূপকথায় ঝড় তুফান আসে। সফল হও।

ট্রেন

আমি প্রায়ই একটা ট্রেন এ চড়ি। ট্রেনের শেষ বগিতে একলা আমি বসে। ট্রেনের পরিচিত শব্দ আর দুলুনি আমি টের পাই। আর আতংক লাগে, কেবল মনে হয় আমি যেন আমার স্টেশনটাতে নামতে পারবো না।
আর সেটাই হয়। আমার স্টেশনে ট্রেন থামে না। চলতেই থাকে। আমি আতংকিত হয়ে বগিতে বসে থাকি। ট্রেন চলতেই থাকে। এটা একটু লুপের মতন চলতে থাকে অনেকক্ষণ।
তারপর আমি জেগে উঠি।

সম্পর্কের জটিলতা

অনেক সম্পর্কের জটিলতাগুলোই তো দেখলাম। কত অদ্ভুতভাবে সমাজের চোখে কিংবা পরিবারের চোখে ব্যক্তি সম্পর্কগুলো জটিল হয়ে আছে। এই জটিলতাগুলো এক ধাক্কাতেই দূর করা যায়। ঐ মানুষগুলো কেন জানি জটিলতা টিকিয়ে রেখে কষ্ট পেয়ে যেতেই বরং বেশি আগ্রহী। কি যেন বলে এটাকে কষ্ট থেকে সুখ পাওয়া। অথচ ঐ সম্পর্কের গল্পগুলো কত না সুন্দর হতে পারতো!

আমি জানি

আমি জানি,
একদিন আমিও কারো ব্যথার কারণ হবো।
আমার জন্যে,
একদিন কারো দু’চোখ বয়ে গড়াবে জল।
আমি জানি,
এই নশ্বর পৃথিবীতে অনেক কিছুরই মানে নেই।
আমার জন্যে,
চিরদিনই মানে খুঁজে পাওয়া অর্থহীন।
তারপরও আমি,
পৃথিবীতে একজন চূড়ান্ত বিকারগ্রস্ত।
যার জন্য,
কেও নিশ্চিত নয়, নিশ্চয়তা সুদূরপরাহত।

খসড়া ১.০ / ১০-০৫-১৫

তোমাদের ভাবনায় আমার

তোমাদের ভাবনায় আমার ভাবনাগুলো অবাঞ্ছিত
মোটা দাগের স্বপ্নগুলো গোত্তা খাওয়া ঘুড়ি
তোমাদের ভাবনাগুলো স্বপ্ন বুনে রঙিন ক্যানভাসে
আর আমার! সেতো পাথর আর সমুদ্রের নুড়ি!

খসড়া ১.০ / ০৪-০৫-১৫