It’s easy to look sharp
When you haven’t done any work

চারপাশে অনেক শার্প ছেলেমেয়ে দেখি। এর রহস্য মাত্র দু লাইনে দেয়া হয়েছে। চমৎকার।

নাম বলতে চাই না, চাকরি থাকবে না :/

কেও কেও দামি হ্যান্ড সেট ব্যবহার করেন। অনলাইন উপস্থিতিও খারাপ নয়। সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার ইত্যাদি বেবাক জায়গায় একাউন্ট করা। আবার ম্যাসেঞ্জার, হ্যাঙআউট, হোয়াটসএ্যাপ, ভাইবার, ইমো ইত্যাদিতেও সবার আগেই আছেন। এই কেও কেও দের দুটি নাম্বার সব সময় থাকেই, আরও অসংখ্য নাম্বারের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ইমেইল একাউন্টও পাওয়া যায় বলাই বাহুল্য।

সমস্যাটা হচ্ছে, ডাইরেক্ট ফোন না করলে এই কেও কেও বান্দাদের বেশিরভাগ সময়ই ওসব জায়গাগুলো থেকে রেসপন্স পাওয়া যায় না। আমার ডাইরেক্ট ফোন করে কথা বলতে খুব একটা ভাল লাগে না সব সময়। ছোট খাট বিষয়গুলো শর্ট ম্যাসেজ করি, সাধারণত ম্যাসেঞ্জার জাতীয় মাধ্যমগুলোতে। অনলাইনে একটিভ না পেলে সরাসরি এসএমএস করি। অথচ বান্দাদের এমনই স্মার্টনেস, বেশিরভাগ সময় তাদের দ্রুত রেসপন্স পাওয়া যায় না। দুষ্কর। স্মার্টফোনধারী স্মার্টলোক!! ইমেইল যোগাযোগ এর কথা নাই বা বলি। এদের একাউন্ট থাকলেও, হিসাব থাকে না।

এর উল্টো ঘরানার লোকও রয়েছেন। তাদের আমার ভাল লাগে। বরং ফোনে তাদের পাই না। ফোনে না পেলে একটা ম্যাসেজ দিয়ে রাখলে উনারা দ্রুততম সময়েই সাড়া দেন। জরুরী কিছু হলে ফোন ব্যাক করেন। ইমেইল জবাব দেন। উনাদের দেখেছি বেশিরভাগই সফল লোক কিংবা সফল হতে যাচ্ছেন এমন। অনুসরণীয়। ফালতু কথা উনারা কম বলেন। যা জানেন না বোঝেন না, তা নিয়ে একটা কথা বাড়তি বলেন না। উনারা যেমন সুন্দর করে না বলতে পারেন, তেমনি অসম্ভব রকম চাপ নিয়ে প্রচুর দায়িত্বও নিতে পারেন। কিছু লোকদের দেখি মায়ের হাতে ভাত খেয়ে আরামে দিনকাল যাপন করছেন, দায়িত্ব নেন না। পরিশ্রম করেন না। মুখের উপর নাও করে দিতে পিছপা হন না। এই ধাঁচের লোক প্রচণ্ড অকৃতজ্ঞ। এবং হীনমন্যতায় ভুগে। একাকীত্ব বিষণ্ণতা পিছু ছাড়ে না তাদের।
ফ্রেন্ড লিস্টে অসম্ভব কিছু ভাল মানুষ রয়েছেন, যাদের সময় জ্ঞান আর দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারা, প্রচণ্ড রকম মুগ্ধ করে আমাকে। কেবল জীবন জীবিকা নয়, একটি সুন্দর সামাজিক জীবনও পার করেন। পরিবারকে সুন্দর সময় দেন। বন্ধুবান্ধবদের সাথেও আছেন। কাজ কর্ম যে তাদের খুব কম তা নয়। বরং তাদের কাজের যে ধরণ, অন্যরা শ্বাস নিতে পারত কিনা আমার সন্দেহ। তাদের পর্যবেক্ষণ করে যেটা লক্ষ্য করেছি, সময় ব্যবস্থাপনা তারা খুব ভাল বোঝেন। এবং কোন কাজ ফেলে রাখেন না।
মেধাবী কিছু মানুষ জন রয়েছেন, একাডেমিক ক্যারিয়ার দেখার মতন। তাই বলে, অন্য কার্যক্রমে নাই তা নয়। বরং নন একাডেমিক কাজগুলোতেও তাদের উদ্যম লক্ষণীয়। এই ফেসবুকে স্ট্যাটাস পড়ার যুগে তারা মাসে ২-৩ টা বই গড়ে শেষ করে ফেলেন। আজকাল, পড়াশুনায় সবচেয়ে কম সময় দেয়া ছেলেটাও মুখের উপর বলে বসেন, সময় নাই তাই বই পড়তে পারেন না। আমি মুচকি হাসি। কারণ ওসব ছেলের রুটিন আমরা সবাই দেখি জানি।
এক ছেলেকে চিনি, বিজ্ঞান নিয়ে লেখে, সংগঠন করে। পড়াশুনাতেও এগিয়ে। ভাল করছে। কারণ কি? পর্যবেক্ষণ বলে, তার জীবনটা খুব শৃংখলায়িত। শৃংখলায়িত মানে এই নয় যে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠবো। বই নিয়ে বসবো। ঘড়ি ধরে কাজ করবো। শৃঙ্খলা মানে সময়-জ্ঞান এবং প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো শেষ করা। অপ্রয়োজনীয় জায়গায় সময় নষ্ট না করা। সব ধরণের কার্যক্রমে একটা সীমা রক্ষা করা। কেও যদি একাডেমিক লাইফে অতিরিক্ত বাইরের বই পড়েন, সেটা শৃঙ্খলা হবে না। কিংবা অতিরিক্ত সংগঠনে সময় দেয়। কোথায় কতটুকু সময় দিতে হবে তার একটা হিসাব রয়েছে। এই ছেলেটা সুন্দর মতন এটা পারে। তাকে দেখে আমার ইচ্ছে করে, ইশ! ওরকমটা যদি আমি পারতাম! ছেলেটাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি যে এমনটা পারছো তা কিভাবে পারছো? সে বললো, ভাইয়া আমি ঘুমাই। ঘুম নিয়ে আমি কম্প্রোমাইজ করি না। যত ঘুম দরকার ততই ঘুমাই। আর সবার আগে আমার সব থেকে ভাল লাগা কাজটা শেষ করি। মজার বিষয় হচ্ছে, ছেলেটার একাডেমিক যে বিষয়বস্তু সেটাই তার আগ্রহ ধ্যান জ্ঞান।

আমি মনে করি, সমাজে এখনও এরকম দশা তৈরি হয় নি, যে আপনি দৈনিক ৩০ মিনিট বের করতে পারবেন যে ৫-১০ পাতা বই পড়তে পারবেন না। এমন দশা হয়নি যে, দেশ নিয়ে দুটি কথা লিখতে পারবেন না। কিংবা জমে যাওয়া মানুষের ম্যাসেজ এর জবাব দিতে পারবেন না। পরিবারকে সময় দিতে পারবেন না। বন্ধুদের সময় দিতে পারবেন না।
এই লোকগুলার কিছু বাজে অভ্যাস এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, এরা যখন কোথাও বসে আর উঠতে চান না। আড্ডা একবার শুরু করলে শেষ করতে চান না। এরা কাজের সীমা যেমন বোঝেন না, তেমনি বোঝেন না সময় দেবার সীমারেখা। কাজ আর সময় এদের যেমনে চালায় এরা তেমনই চলেন। একবার এক অফিসে গেলাম, কাজ আমার খুব ছোট। দেখলাম বিশিষ্ট স্যারেরা বসে আছেন। আমাকে বলা হল অপেক্ষা করতে। আমি অপেক্ষা করছি আর দেখছি, মিটিং রুমে তারা বেশ গল্প করছেন। আমি বসে আছি দেখে, আমাকেও ডাকলেন। আমি কাজের প্রসঙ্গ তুলতে পারলাম না। তারা গল্প টেনে নিয়ে গেলেন দুপুরের খাবার বিরতি পর্যন্ত। খাবার বিরতিতে, উনাদের সাথে খেতে খেতে, সংক্ষেপে উনারা আমার আর তাদের মধ্যকার কাজের কথা শেষ করলেন। আর এর জন্য আমাকে মূল্য দিতে হলো সব মিলিয়ে ৩ ঘণ্টারও বেশি সময়।
এক বন্ধুর মুখে লেগেই থাকে, তার সময় নাই। খুব ব্যস্ত। কাজে অকাজে ডাকলেও উত্তর ব্যস্ত। একবার ডাকলাম এক কাজে। ফোনে জানালেন, অনেক ব্যস্ত তবে আসবে ১০ মিনিট এর জন্য। বন্ধু আসলেন, বসলেন। কথা আমার ১০ মিনিটেই শেষ। বন্ধু যায় না। ঘণ্টা গড়িয়ে ২.৫+ ঘণ্টা পার হবার পর, অন্য এক জায়গা থেকে কাজের আলাপ আসার পর বন্ধুটি প্রস্থান করেন। দোষ কি দিব বলেন, তার সময় হিসাব থাকে না!

বছর পাঁচেক আগে এক লেখকের বাসায় গিয়েছিলাম। উনার সময়-জ্ঞান আমাকে প্রচণ্ড মুগ্ধ করেছিল। উনার যে পরিমাণ কর্মব্যস্ততা তারপরও উনি আমাকে তিনদিন সময় দিয়েছিলেন। নানা বিষয়ে নানা কথা বলেছিলেন। উনার দেয়া দিনের ৩০-৪০ মিনিট সময় আমাকে শিখিয়েছিল বেশ কিছু জিনিস। উনার একটা কথা রাখতে পারি নি। উনি শুধু একবাক্যে একটা জবাব দিয়েছিলেন, যাবার সময় রিকশা ঠিক করে পিঠ চাপড়ে দিয়েছিলেন। তাঁর এক লাইন খুব অসাধারণ লাইন ছিল না। তবে যে জীবন আচরণ এবং গম্ভীরতা উনি ধারণ করেন, সেই অতি সরল সাধারণ বাক্যটি আজকেও আমার কাছে খুব লাগে। আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। তারপর কাওকে কথা দিলে চেষ্টা করি, রাখার জন্য। যে কথা দিতে পারবো না, তা দেয় না। পুরোপুরি পারি যে তা না। না পারলে আগে ভাগেই জানানোর চেষ্টা করি, অপারগতা প্রকাশ করি দুঃখিত হই।

আজকাল চারপাশে কথা দিয়ে কথা রাখতে না পারার অভ্যাসটাই বেশি প্রচলিত। গত ৫-৬ মাসে এত জন, এত প্রিয় মানুষ, কথা দিয়েও কথা রাখেন নি। তাদের আর কিছু বলতেও ইচ্ছে হয় না আর। তাদের জীবন আমি দেখি। সীমিত জীবন আমরা কি নিদারুণ অবহেলায় কাটিয়ে দিচ্ছি। কোন অর্জন নেই। শূন্য এক জীবন। নিঃসঙ্গ তাদের হাসি তামাশা আনন্দ। কৃত্রিমতাভরা তাদের দিনকাল।

এত এলোমেলো কথা বললাম, তার কি মানে আছে? আমি একটা যোগসূত্র আছে মনে করি। মাথার উপর হয়তো কথাগুলো চেপে ছিল তাই লিখে ফেললাম। লেখা ধরলে আমার হাত অনেক সময় থামতে চায় না। মনে হয় মগজের ভেতরে বসে কেও সুতো টেনে আমার হাত চালাচ্ছে। সে যাই হউক, যোগসূত্রটা হচ্ছে এই যুগের স্মার্ট লোকগুলো কারা?
আমি সৌভাগ্যবান, ফ্রেন্ড লিস্টে প্রায় ডজন খানেক বন্ধুবান্ধব হয়েছেন যারা সেই স্মার্ট লোক। এই বিশৃঙ্খল দুনিয়ায় এখনও তারা শৃঙ্খল, এখনও তারা সামাজিক, এখনও তারা বন্ধুবাৎসল্য। এখনও তারা মানুষের বিপদে সর্বাগ্রে। এই মানুষগুলোর মনেও অনেক দুঃখ থাকে। আপনি বুঝতে পারবেন না। ধরতেও পারবেন না। অনেক প্রাণবন্ত থাকলেও ভেতরে লুকিয়ে থাকে, একটা দিক সেটা কখনও প্রাণবন্ত কখনও না। এইরকম স্মার্ট লোকদের বুঝতে আপনি পারবেন, তাদের অনুভব করতে পারবেন কিংবা হতে পারবেন ভাল বন্ধু, তখনই যখন আপনি তাদের মতন স্মার্ট হবেন।

আপনি যদি হওন সেই রকমের স্মার্ট, যারা স্মার্টফোন উঁচিয়ে ধরে স্মার্টনেস দেখান, কিংবা সারাদিন ব্যস্ত ব্যস্ত বলে বিশৃঙ্খল জীবন যাপন করেন, কিংবা আপনি যদি হওন পরিবারের খবরটুকু রাখেন না অথচ আপনি বিরাট একজন ফেসবুক বিপ্লবী, কিংবা অসংখ্য কথা দিয়ে বেড়ান রাখতে পারেন না বেশিরভাগই। এমনই যদি আপনি স্মার্ট লোক হওন এই যুগের! আর যদি কানের কাছে বড় বড় কথা বলেন, সেসব কথা বিশ্বাসযোগ্য হবে কি?

অধিকাংশ মানুষরাই আজ এই শ্রেণীতে পড়ে গেছি। বড় বড় কথা বলি। শোনার চেয়ে বেশি বলি। এমন স্মার্টলোকদের শাসন করে শোষণ করা তো সহজই হবে। তাই না?