দীর্ঘ ব্যস্ততা সারাদিন

গতকাল রাতে ১০ টায় এক ক্লায়েন্ট এর সাথে মিটিং ছিল। মিটিং করতে ইস্কাটন যাবার পথে, শাহবাগে ব্যাপক জ্যাম। হেটে যেতে হলো। মিটিং এ পৌছাই রাত সাড়ে ১১ টার দিকে। খুব ক্লান্ত হয়ে রিকশায় ফিরলাম মুগদায়। সাথে ছিল দিপু। না খাইয়ে দিপুকে ছাড়া যায় না। রাত বাজে তখন ১টা। সব খাবার দোকান বন্ধ। এসময় হুমায়ূন আহমেদের হিমু বেঁচে থাকলেও, মধ্যরাতে কোন খানা দানা জোগাড় করতে পারতো কিনা আমার সন্দেহ! তবে, মুগদা এমন এক জায়গা সেখানে সবই সম্ভব। অনুমান ঠিক ছিল। আল্লার দানে তেহারী পাইলাম। গরম গরম তেহারী খেলাম। দিপুকে রিকশায় উঠিয়ে দিয়ে বাসায় রাত দেড়টায়, ভাবলাম একটু জিরিয়ে নেট এ বসবো। ঐ জিরিয়ে নেয়ার সময় চোখ বন্ধ করছি উঠে দেখি সকাল হয়ে গেছে!!!

মোবাইল চেক করে দেখি বড় ভাই, ছোট ভাই, কেও ফোন দিতে বাদ রাখে নাই। ভাবলাম, বাহ আমি বেঁচে আছি কিনা তাই জানতে বোধ হয় ফোন দিছে 😀 সবাইকে ব্যক করলাম, সবার উত্তর আমার আম কই!!! গেলো মেজাজ খ্রাপ হয়ে। আসলেই তো তাদের আম কই ? :O

কিছু কাজ ছিল সেগুলো শেষ করে আগে গেলাম ক্লাবে। সেখানে থেকে দিপু আর অপূর্বকে নিয়ে গেলাম রূপম ভাই এর বাসায়। আম আগেই প্যাক করা ছিল। আরো বাকী যা ছিল প্যাক করে ফেললাম। অপূর্ব সহ আর যাদের যাদের ছিল, দিলাম পাঠাইয়া। আমি আর দিপু, দুপুরবেলা, তাও আবার রূপম ভাইয়ের বাসায়! আন্টি বরাবরই আমাদের মানে বিশেষ করে আমাকে (আমার মনে হয়) খিচুড়ি-মাংস খাওয়াবে। আন্টি তাড়া দেয়। আমিও ভাবি, গত পরশুর মতন আজকের দিনটা কুদিন না। বড়ই শুভ দিন আজকে। সকাল থেকে ইলশে গুড়ি বৃষ্টি। এমন একটা পরিবেশে খিচুড়ি, সাথে মুখে লেগে থাকা বেগুণ ভাজা! আহা! কি যে স্বাদ 🙂 পুরা খাবারে সাক্ষী ছিল আস্ত একটা মুরগী। যার একটা ঠ্যাং আমি খাইছি 😛 খিচুড়ি আমার খুবই প্রিয় আন্টিকে বলাই হয় নাই। রান্না যে খুবই ভালো লাগছে তাও বলা হয় নাই। অকৃতজ্ঞ আমি আন্টির প্রতি কৃতজ্ঞ। আর আন্টিকে কেমনে ধন্যবাদ বলি 🙁 বললেই ফর্মাল ফর্মাল লাগে। মনে হয় চাইনীজদের মতন মাথা ঠুকে থ্যাংকু কইলাম। তাই না বলাই ভালো। 🙂 আন্টি বুজে নিবেন।

সারা দিন আম আর আম। দিপুর কাজ ছিল পাকা আম খুঁজে বের করা। পাজি একটা পাইলেই নিজে খেয়ে ফেলতে চায়। এভাবে পাকা আম খাওয়ার উপর দিয়ে ছিলাম। বেশির ভাগ আমই পুরা না পাকাতে রূপম ভাইয়ের ঘর ফাঁকা করতে পারি নাই :’(

এইবার আম বিতরণ করতে যাইতে হবে উত্তরা। উত্তরা থেকে মিরপুর। পথে মধ্যে কয়েকজন দিতে হবে। সিএনজি শো শো গতিতে চলছিল। আমি দিপু প্ল্যান করছিলাম পুলিশ যদি ধরে কি কমু :O তখন সিএনজিওলা বলেন, পুলিশ ধরলে বলবেন মিটারে যাইতেছি। আমি শুনে হা করে রইলাম। মিটারে আমাদের শেষ মেষ বিল আসছিল, উত্তরার ভেতরে ঘুরানি দিয়ে মিরপুর ২ এরও ভিতরে কোন গলি পর্যন্ত, মাত্র ২৫৭ টাকা 😀 কিন্তু আমাদের দিতে হয় ৪৮০ টাকা 🙁

অনেক আম থাকায় বড় ভাই মোস্তাক দা’র বাসায় বসতেই পারি নাই। অভ্র এর সাথে খেলা ধুলা করা হৈলো না। ওর বইগুলাও এবার দেয়া হলো না। সামিয়া আপার সাথেও গল্প হইলো না 🙁

আম আর সিএনজি নিয়ে আরেক বড় ভাই ইমতিয়াজ ভাই এর বাসা অমুক তমুকের কাছে জিজ্ঞাসা করে এবং রিনির বলা লোকেশন ম্যাপ ফোনে জেনে, খুজে বের কর্লাম। বাসায় যেয়ে তো দেখি, আন্টির এলাহি আয়োজন!!! আমার খানা দানা প্রীতি আন্টির কানেও চলে গেছে। কি যে বলবো লজ্জা পাইতেছিলাম। হুট করে আইসা আন্টিকে দিছি বিপদে ফেলে। আন্টি আরো কি যেন আয়োজন করা শুরু করছিলেন ব্যস্ত হয়ে 😀 আমি দিপু অনেক অনুরোধ করে বুজাইতে পারলাম যে, সারাদিন ম্যালা খানা দানার উপর দিয়ে গেছি। আমরা এমনিতেই খেতে পছন্দ করি। এক্ষেত্রে আপোষ করি না 🙂 আজকে কোনভাবেই পেটে কুলাবে না। আরেক দিন এসে খেয়ে যাবো। আজ কথা বলে যাই। আন্টি বললেন, আচ্ছা শরবত খেয়ে যাও 🙂

আমরা শরবত আনা দেখতেছি!!! এক এক করে ডাইনিং টেবিল ভর্তি হয়ে গেছে। পদের নাম ভুলেও যেতে পারি। নুডলস, সমুচা, গাজরের হালুয়া/লাড্ডু, তালের পিঠা, বুটের হালুয়া, জিলাপি, কাঠাল, বিস্কিট আর নাম মনে নাই! আন্টি বলে দিছেন, সব শেষ না করে উঠা যাবে না। কোন মতে যা পারলাম, শেষ করলাম। সবগুলো খাবার মজার ছিল। গাজরের হালুয়াটা অনেক মজা পাইছি। এ জিনিস অনেক দিন খাওয়া হয় না। তালের পিঠা, যদি পেট এ জায়গা থাকতো সব শেষই করে আসতাম। 🙂 ঘরে বানানো এরকম দেশীয় খাবারগুলো অনেক দিনই খাওয়া হয় না। আন্টিকে কৃতজ্ঞতা আর ধন্যবাদ। আসার পথে ভাবছিলাম, আয়োজন না করেই এই বাসায় এই অবস্থা!!! আয়োজন করলে আসার আগে অন্তত তিন দিন রোজা রেখে আসতে হবে 😛 এই খাবারগুলো ইমতিয়াজ ভাই সম্ভবত অনেক দিন মিস করেন। স্টেটাস পাইলে মন খারাপ করলে আমার কোন দোষ নাই -_-

সর্বশেষ আমার কলেজ জীবনের বন্ধুকে আম দিতে হবে। দীর্ঘ ৫ বছর তার সাথে সামনা সামনি দেখা হয় নাই। বন্ধুরে মিরপুর ফল পট্টিতে আসতে বললাম। সে আসলো। সে এক উষ্ণ মুহূর্ত। মনে হল, একটুও বদলাই নি। চলে গেছি কলেজ জীবনের সময়গুলোতে। দীর্ঘ সময়ে বন্ধুর পরিবর্তন সে কেবল দাড়ি রাখছে। চোখের পাওয়ার একটু কমছে। তাই চশমাও নিছে 😛 আর আমি তো আমি ই আছি 🙂 সময় খুব কম ছিল। মাত্র ২০ মিনিট কথা বলতে পারছি। ইচ্ছা করছিল আরেকটু থাকি। আরেকটু কথা বলি। কিন্তু কারো সময় হয় না। একটা সময় পর সবাই সময় এর জন্য দৌড়ায়। সময় আর হয় না।

নানা হাসি ঠাট্ট তামাশা, খানা দান আর হট্টগোল এর পর আমার স্বষোষিত এক ছুটির দিন ব্যস্ততায় শেষ হল। এখন জমানো কাজ নিয়ে বসতে হবে। বাসার আম এখনো পাকে নি। আশা করি কালকে পাকা পাবো কিছু। 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *