এক কাপ চা মজা করে খা

ক্রমশঃ মায়ের বানানো চা এর প্রতি আকর্ষণ বাড়তেছে। লক্ষণ ভালো। বাইরে চা আর খামু না। পয়সা নষ্ট। চা বিষয়ে প্রসঙ্গ যখন আসলো, তখন বলতেই হয় মুগদা পাড়াতে বৈচিত্রপূর্ণ চা এর দোকানগুলোর কথা। সন্ধ্যাবেলা কিংবা বাজার করে ফেরার আগে বন্ধুকুল মিলে এক কাপ চা, পান প্রতি দিনকার বিষয়।

লোকনাথের দুধ চা

লোকনাথের দুধ চা

আমাদের চা খাওয়া শুরু হয়, মুগদা বড় বাজারে মোতালেব ভাই এর টি স্টল থেকে। মানে ওখান থেকে চা খাওয়াটা অভ্যাসে পরিণত হয়। এর আগে মানিক নগর কলোনী কিংবা রাস্তায় ফেরি করা ২টাকার চা খেতাম। ওই চা টার অন্য রকম একটা মজা ছিল।

মোতালেব ভাই এর চা এর দোকানে রঙ চা বানানোর প্রক্রিয়া একটু আলাদা। মানুষের ব্যতিক্রম কিছু বরাবরই ভালো লাগে। আর এক কাপ চা না, তারা এক মগ চা দেয়, বসার জায়গা অনেক, খোলামেলা, এসব কারণে জায়গাটা ভালো লাগতো। এইখানে আবার চা খাওয়ার উদ্যোক্তা হিসাবে পরিচয় দেয় ছোটন।

পরে আরেক উদ্যোক্তার আবির্ভাব হয়। তার নাম মনির। মনির আরেক রঙ চা এর দোকান আবিষ্কার করে। সেখানে রঙ চায়ে পুদিনা পাতা দেয়া হয়। শুরু তে ফ্লেভারটা বেশ ভালো লাগতো। জনতা ব্যাংক এর ওখানে এরকম চা এর দোকান পাওয়া গেল ২টা। এখানে নাম হলো পুদিনা পাতার চা এর দোকান।

কিছু দিন পর আরেকটু সামনে আরেকটা চায়ের দোকান ভালো লাগলো। কিন্তু কোন চা ই আমাদের বেশি দিন মন ধরে রাখতে পারলো না। কাঞ্চন লাইব্রেরির পাশে এক ছোট চা এর দোকান পাওয়া গেল। ওরা সদ্য লিকার সিদ্ধ করে চা করে দেয়। পুদিনা পাতা লেবু আর আদাও দেয়। স্বাদে বেশ। তবে কদাচিৎ চিনির শরবতও হয়ে যায়।

চা এর দোকান প্রচুর থাকলেও এ কটা দোকান আমাদের গণনায় ধরি আমরা। দুধ চা খেতে হলে লোকনাথ ই আমার কাছে সেরা লাগে। তবে, এ বিষয়ে বন্ধু দরিদ্র এর মতামত ভিন্ন। দরিদ্র মনে করে, বড় বাজারের হোটেল এর দুধ চা হোটেল রাজ্জাক এর দুধ চা এর মতন স্বাদের। কি জানি হতে পারে! তবে আমাদের বন্ধুরা দুধ চা কালে ভদ্রে খায়।

চা খেতে খেতে নানা ঘটনা ঘটে। দেশের নানা সমস্যা, অস্থীরতা, রাজনৈতিক আলাপ, হ্যান ত্যান আলাপ চলে। আমাদের আড্ডা উত্তপ্ত হয়। সবাই সুন্দর সুন্দর বলতে পারে। বাড়ি ফেরার পথে, আড্ডা যেন হয় না শেষ। মনে হয়, দুনিয়ার তাবৎ সমস্যা আড্ডাতেই সমাধান করে দিতে পারবো। আমাদের আড্ডায় দেশের বুদ্ধিজীবি, অর্থনীতিবিদ, বিজ্ঞানী, চাকরীজীবি সবাই থাকেন। সবাই স্বঘোষিত। আড্ডার বিষয় বস্তুর অভাব পড়ে না। আড্ডা চলতে থাকে। নতুন নতুন চা এর দোকান খুজে বের করা হয়। সব কিছুর নতুনত্ব আসে। যেমন, এখন আমরা চা খেতে যাই বাসাবো মাঠে। ওখানে খোলা মাঠে। প্লাস্টিক চেয়ারে বসে খোলা আকাশের নিচে চা খাওয়ার মধ্যে অদ্ভুদ প্রকারের মজা আছে। তবে সেখানে দৈনিক যাওয়া হয় না। কদাচিৎ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *