আমার স্বপ্নের গ্রাম :: ভাবনা – ১

আমি বেশিদিন এই শহরে থাকবো না। গ্রামে চলে যাবো। সিদ্ধান্ত চূড়ান্তই। আমার ফিরে যাওয়া গ্রামটা হবে, ঘুম স্বপ্নে দেখা ছবির মতন। বাসার উঠান পর্যন্ত চলে যাবে পিচ ঢালা রাস্তা। উঠান হবে মবুজ ঘাসে মোড়ানো কার্পেট। পিচ ঢালার রাস্তার দুপাশে থাকবে সবুজে ক্ষেত। দূর দূরান্ত পর্যন্ত। একটু পর পর থাকবে ছায়াদার গাছ। কৃষকদের দেখা যাবে মাঠে কাজ করতে। ক্লান্তি থাকবে। কিন্তু সুখ থাকবে। পথে একটু পর পর ঝিরিয়ে নিতে থাকবে, বাঁশের তৈরি বেঞ্চ। ছোট ছোট দোকানগুলো থাকবে। সিগারেট বিক্রি হবে না। মাদক বিক্রি হবে না। চা থাকবে। রঙ চা, দুধ চা। গ্রামেরই কোন ঘরে বানানো মুআ থাকবে। মুড়ির মুআ, চিড়ার মুআ, চাল ভাজা মুআ। পিঠাও থাকতে পারে। এই ছোট দোকানগুলোর সাথে থাকবে কাঁচের আলমারি। ভেতরে রাখা হবে বই। তালা থাকবে দোকানদারের কাছে। ছোট কটি টেবিল বেঞ্চ জড়ো করে দেয়া হবে। কেও চা খাবে। কেও বই পড়বে। কেও পত্রিকা পড়বে। দোকানদারের মুখে থাকবে হাসি। প্রবীণরা রাজনীতি নিয়ে জড় তুলবেন। নবীনরা শুনবেন। বিজ্ঞান-সাহিত্য নিয়ে তুমুল আলোচনা হবে।

আমার ফিরে যাওয়া গ্রামের ঘরগুলি দালান হতে হবে না। মস্ত ভালো ইট কাঠের হতে হবে না। সামান্য নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে বানানো কুড়ে ঘরেও আপত্তি নেই। মাটির দেয়াল হলেও সমস্যা নেই। তবে সবই হবে পরিকল্পনা মতন। প্রকৃতি সাথে মানুষের অপূর্ব নির্মাণ শৈলীর স্পর্শ থাকবে। এই সব আবাস স্থল কেবল মানুষের থাকার জন্যই ভাবা হবে না। চিন্তা করা হবে পাখিদের থাকার জন্যও। নাম না জানা নানা পাথি যাতে সহজে বাসা করতে পারে সেজন্য থাকবে গাছ। সেই গ্রামে দুষ্ট ছেলে পাখি তাড়া করবে না। পাখিও মানুষ দেখলে ভয়ে পালাবে না। বাচ্চারা বড় হবেই পাখির সাথে খেলে ধুলে। কুকুর বেড়াল সবই থাকবে এখানে সেখানো। ওরা থাকবে মানুষের মতই স্বাধীন।

পিচ ঢালা পথ টা শেষ হবে ঠিক নদীর পারে। বিশাল নদীর পার। নদীর পারে উচুতে খেলার মাঠ। খেলার মাঠের অপর প্রান্তে থাকবে স্কুল। সেই স্কুল এ কোন দরজা থাকবে না। থাকবে না কোন জানালা। কেবল ছাওনি আর বসার ব্যবস্থা। বৃষ্টি হলে ঝড় হলে কেও স্কুলে পড়বে না। সবাই বৃষ্টি দেখবে। ঝড় দেখবে। কাচের দেয়াল ঘেরা ল্যাব থাকবে। ছোট ছোট শিশুরা দেয়ালের গাল ঠেকিয়ে দেখবে বড় ভাইরা কি গবেষণা করে! ছাত্রদের কোন ইউনিফর্ম থাকবে না। জামা কাপড় হতে হবে পরিষ্কার।

গ্রামে থাকবে ডাক্তার। আর রবে সাইকেল। ভ্যানও থাকবে। তবে ভ্যান রোগীকে নেয়ার জন্য নয়। রোগীর চিকিৎসা করার যা যা লাগে ভ্যানে করে বাসায় পৌছে যাবে। ডাক্তার সাইকেল করে রোগীর বাসায় সেবা দিয়ে আসবে। ডাক্তারকে কোন ফি দিতে হবে না। গ্রামবাসী চাঁদা তুলে এক করে ডাক্তার কে দিয়ে দিবে। কম টাকাতে ওষুধ পাওয়া যাবে।

শহরে যাবার জন্য থাকবে গাড়ি। নদীতে থাকবে নৌকা। গ্রামের ফসল দ্রুত চলে যাবে শহরে বন্দরে। শহর থেকেও দরকারি জিনিস চলে আসবে গ্রামে দ্রুত।

সেই গ্রামটির অপেক্ষায়।

(আরো যুক্ত হবে… )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *