পাবলিকের ওই হ্যাডমগিরি

এক বাস কাউন্টারে বসে ছিলাম। কাউন্টারে ছিল ওয়াল ফ্যান (ওই যে টেবিল ফ্যান ওয়ালে ঝুলাই রাখে, সুতা দিয়ে সুইচ কানেক্ট হয় ওগুলা)
একটা কাজে বসে অপেক্ষা করছি। বন্ধু আসবে। ওইখানকার এক ২০-২২ বছরের ছেলে ফ্যানের সুতা ধরে হেচকা টান মারল। টান মারা কারণে সুতার নিচের অংশ গেল ছিড়ে। কাউন্টারের দুজন লোক ছিল, তারা দিলো মৃদু ধমক! কাউন্টারের লোকের মৃদু নায্য ধমকের জোরে ওই ছেলের প্রেস্টিজ যেন ভাঙা কংক্রিটের দেয়ালের মতন খুয়ে খুয়ে পড়তে লাগলো। শুরু হল তর্কা তর্কি। তার পরিচয় হ্যান ত্যান তাকে কেন মৃদ্যু ভৎর্সনা করা হইলো তার জবাব কি? এদিকে আরেক কাউন্টারের লোক ছেলেটাকে হালকা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। প্রেস্টিজ তো আর থাকে না! ফোন দিলে ওই ছেলের হ্যাডমদের! তারা আসলো। আসা মাত্রই শুরু হল দুমাদম মার। কাউন্টারের লোক মার খেতেই থাকলো ১০-১২ জনের ছেলের হাতে। শার্ট ছিড়ে তাদের মোটামুটি শায়েস্তা করার পর কোথা থেকে বাংলা সিনেমার মতন, মূল ঘটনা সুসমাপ্ত হবার পর পুলিশের আবির্ভাব। আমি অবাক হৈলাম, পুলিশের সামনেই তারা চলে গেল পুলিশ ধরলো না। পুলিশ আগে ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন!

এখন চলছে হ্যাডমদের দিনকাল। হুটহাট মাথা গরম করে দু এক ঘা না লাগাইতে পারলে বুঝি আর হ্যাডম থাকে না! আর সেই হ্যাডমগিরি সবার মধ্যেই ইদানিং দেখতে পাই। কদিন ধরে একটা ছবি শেয়ার হৈতেছে। করুণ সে ভাষা। দুটি শিশু খাবার চুরি করে খাইছে। পাবলিক পিটাইছে। আমি খারাপ লোক(!) দোষের কিছু তো দেখি না। অন্যায় করছে পাবলিক হ্যাডমগিরি দেখাইছে। পিডাইয়া সোজা করার চেষ্টা করছে হোক সে শিশু! অন্যায় আর ডাইরেক্ট শাস্তি!

শিশুর ওই চুরি প্রবণতা আর পাবলিকের ওই হ্যাডমগিরি আর আপনাদের শেয়ার দেইখ্যা আমার মন গলে না। বরং আপনাদের (!) আচরণ আমার হাস্যকর লাগে। কারণ যখন খাবার টেবিলে বসেন, কতটুকু খাবার নষ্ট করেন তার হিসাব আপনার থাকে না। যখন মানুষের সাথে কথা বলেন ভদ্রতাবোধ চিন্তা করেন না। মানুষের দুঃখ দুর্দশা লইয়া আর কত ফাইজলামি করবেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *