শিক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাতকার এবং আমার সামান্য মন্তব্য

সাক্ষাতকার লিংক: বাংলানিউজ২১
“এসএসসি-এইচএসসির দুটি সার্টিফিকেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়? কেন বিশ্ববিদ্যালয় তা গ্রহণ করবে না?”
মান-নীয় মন্ত্রীর এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বটে! আমার কাছেও গুরুত্বপূর্ণ লাগে প্রশ্নটা। অন্তত এই প্রশ্নের ব্যাপারে মন্ত্রীর সাথে একমত
কোচিং বাণিজ্য বন্ধ হচ্ছে না কেন?

মন্ত্রী: আমার দু’জন বন্ধু বলেছেন, প্রতি বছর ৩২ হাজার কোটি টাকার কোচিং বাণিজ্য হয়। এতে করে গ্রামের দরিদ্র শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ে। ছাত্ররা জানে কোথায় পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যাবে। সেটার জন্য তারা কোচিংয়ের পথ বেছে নেয়।
এই পয়েন্টটাও আমার ভাল লাগছে। মন্ত্রী জ্বি ইউ রকস্ !!!

(হাস্যকর লাগলো মন্ত্রী কোন সংবাদপত্র/গবেষণাপত্রের রেফারেন্স টানতে পারলেন না। ঠিক কত টাকা কোচিং ব্যবসায় বাণিজ্য হচ্ছে, রেফারেন্স টানলেন তার দুইজন বন্ধুর। উল্লেখ্য, প্রাইভেট পড়ানোর নামেও কোচিং ব্যবসা চলছে। এইখানে বাণিজ্য এর পরিমাণ আরো বেশি। আমার রেফারেন্স লাগে না, বাস্তব অভিজ্ঞতা।)

– মন্ত্রী: ২০১২ সালে ১৭ বছরের পুরনো সিলেবাস পরিবর্তন করে ১১১টি নতুন বই সংযোজন করা হয়েছে, জ্ঞান উচ্চমানের শিখরে পৌঁছাবো। শিক্ষার মান আরো বাড়বে, বিশ্বমানের পৌঁছানো যাবে।

উচ্চমান আর বিশ্বমান জিনিস দুটা কি আসলে? মন্ত্রী মশায় থামেন এবার একটু। নতুন ১১১ টি বই কেন যুক্ত করে দিলেন? আমরা যে কটা বই পড়ছি সে কটা যথেষ্ঠ ছিল না? এটা নিয়ে বিশদভাবে দেখতে হবে। কি কি বই যুক্ত করছেন। প্রয়োজনীয় কয়টা আর অপ্রয়োজনীয়ইবা কয়টা!
– পাস-ফেল নিয়ে কিছু বলুন?

মন্ত্রী: পাস করার জন্যই তো শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসে, শিক্ষকরা পাস করার জন্য পড়ায়, অভিভাবকেরা স্কুলে পাঠায়। কেউ চায় না ফেল করুক।
মুচকি হাসি পাচ্ছে। জাফর ইকবাল স্যার এই বিষয়ে এক লেখা লিখেছিলেন। সেখানে অনেকগুলো ছোট ছোট ঘটনা উল্লেখ আছে। আপনে একটু পইড়েন। জাফর ইকবাল তো আপনাদের কাছের লোকই। শুনেছিলাম উনিও এই শিক্ষানীতি প্রণয়নে জড়িত ছিলেন।
– শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কী বলবেন?

মন্ত্রী: মেধাবী ছেলে-মেয়েদের নিরুৎসাহিত করা, হতাশ করা কোনোভাবেই ঠিক হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরাই বলবে, তারা পড়ালেখা করেছে কি না। আশা করব, তারা সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে…।

মন্ত্রী মশায় আমাদের ভাইবোনেরা লেখাপড়া করছে। ওই কিন্ডার গার্টেন এ পড়ুয়া ছোট ভাইটি যখন ব্যাগ ভর্তি বই খাতা নিয়ে স্কুলে যায়। ব্যগের ভারে তার ছোট কাধটা সহ্য করতে পারে না। বাবা কিংবা মাকেও বেগ পেতে হয় ব্যগের ভার এর জন্য। সকালে যায় দুপুরে আসে। আবার বিকালে কোচিং। রাতে প্রাইভেট টিচার। তারপর ঘুম। তারপর আবার চক্র শুরু। দেখলে মায়া লাগে। স্কুল কলেজের ভাইদেরও একই অবস্থা। বই আর পড়াশুনা। না হলে টিকা যাবে না। তারা আছে ২৪ ঘন্টার দৌড়ের উপর। মাঠে নাই খেলাধুলা। বিজ্ঞান ক্লাব, বিতর্ক ক্লাব এগুলার কথা হারিয়েই গেছে। সৃজনশীল শিক্ষা কতটা সৃজনশীল করছে জানি না। তবে অনেক সৃজনশীল কাজ এর অপমৃত্যু ঘটাচ্ছে তা বলতে পারি।
– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কী বলবেন?

মন্ত্রী: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্বশাসিত। কিন্তু এই স্বাধীনতা দেওয়ার মানে স্বাধীনতা দায়িত্বের সঙ্গে পালন করা, আশা করি তারা সেটা করবেন। দায়িত্বশীল হবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

আশা করব, শিক্ষার্থীদের সর্বনাশের বিষয়ে তারা (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) বিবেচনা করবে।
কথাটা ঘুরিয়ে যদি ভাবি? খুব কি বেঠিক হয় মন্ত্রী সাহেব? আপনি কি ঢাবিকে সর্বনাশের কথা ভাবতে বলেছেন তা ইতিবাচক ভাবে নিবো না নেতিবাচকভাবে নিবো?

– সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্যে আপনার বক্তব্য কী?
মন্ত্রী: যারা সমালোচনা করে তাদের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের হতাশাগ্রস্ত করা, ভবিষত প্রজন্মকে সর্বনাশের পথে ঠেলে দেওয়া। আমি মনে করি, সমালোচনা না করে আমাদের ভুল ধরিয়ে দিন। শিক্ষার্থীদের হতাশ করবেন না।
হ্যাঁ আপনি ঠিক ই বলেছেন। আমাদের দেশে কেও সমালোচনা করতে জানে না। আর সমালোচনা করা হলেও কেও কানে শুনে না। আপনার কাছে আমার প্রশ্ন, সমালোচনাকারীরা যে উদ্দেশ্যে সমালোচনা করেন আপনি ভাবছেন সেই উদ্দেশ্যটা আপনিই কি বাস্তবায়ন করে দিচ্ছেন না ? সমালোচনা না করে ভুল কিভাবে ধরিয়ে দিতে হয় সেই বিষয়ে একটি বই ১ম শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত অবশ্য পাঠ্য হিসাবে যুক্ত করে দিতে পারেন। তাহলে, সমালোচনা কারী আগেই শিক্ষালাভ করবে। এবং আপনার উদ্দেশ্যপূরণে জানপ্রাণ দিয়ে সহযোগিতা করবে। (!!!)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *