নেত্রকোনা

সূর্য ডোবার পথে। আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না ময়মনসিংহ কি আজকেও যাবো? নাকি কালকে রওনা দিবো হোটেলে রেস্ট নিয়ে? আপাতত শরীরের যে অবস্থা ছিল তাতে ময়মনসিংহ যাওয়া বিলম্বিত করেছিলাম। কিন্তু ঘটনাপ্রবাহে ঐদিন তিন পর্যটককে এক রাশ ক্লান্তি ক্ষুধা নিয়ে রওনা দিতে হয় ময়মনসিংহ এর উদ্দেশ্যে। সেই গল্প হবে নেত্রকোনার গল্প বলা শেষ হলেই।
DSCN1162

বেলা শেষ। বাড়ি ফিরতে হবে। নেত্রকোনায় সমেশ্বরী নদী দেখা হল। জেলাটা ভালো করে দেখা হল না। আবার যেতে হবে। সময় নিয়ে।
DSCN1155

সীমানা চিহ্ন পাথ্থর। একই পাথরে এক পাশে লেখা Bangla আরেকপাশে India. এটার উপর বসিয়া একটা ছবি তোলার ইচ্ছা ছিল। সীমান্ত রক্ষীদের সাথে গল্প সল্প করার সময় সুযোগ করতে পারি নাই। এই পাথরের সামনে সুন্দর একটা গাছ আছে। দেশবিভাগের সময় পাকিস্তান ভারত বিভাগের সময় যে সীমানা একে দেয়া হয় সেই সীমানই এখনো রয়ে আছে। ৪৭ সালে লাগানো লোহার পিলার/রেল এখনো বিদ্যমান। সীমান্তবর্তী লোকজন এপার ওপার সহজেই আসা যাওয়া করতে পারেন। দিনের সময়। কোন সমস্যা হয় না। উপর মহল থেকে অনমুতি নেয়া আছে। বর্ডার গার্ডের এক অফিসার বললেন, এখানকার লোকজন তুলনামূলক গরীব বলে ভারতও উচ্চবাচ্চ করে না। সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ অনেক রকমের ভাষাতেও কথা বলেন।

DSCN1153
শীতকাল সময়টা থাকে শুষ্ক। এসময় গিয়ে আসলে এখানে খুব একটা মজা পাবেন না বিলাসী ভ্রমণপ্রেমীরা। রাস্তা ঘাট এর অবস্থাও ভয়ংকর। হাড়গোড় আলাদা হয়ে যাবে। তাই ভেবে চিন্তে। তবে এমন খোলা বিস্তৃত জায়গায় দমটা নেয়া যায়। সেটা বলতেই হবে। মানুষগুলো মনে হল খুব ঠান্ডা মেজাজের।

DSCN1147

এই গর্তটা কয়লা ছাকার জন্য নয়। এটা থেকে পানি অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করছে এক চাচা। দুপুরের খাবারের পর চাচা এই গর্ত থেকে পানি ছেকে তুলে বোতল এ সংগ্রহ করছিলেন। এই পানিই খাবেন। নদীর পানির তুলনায় এই পানি তুলনামূলক বেশি নিরাপদ।
ছবি তুলেছেন: রূপম ভাই

DSCN1133

কয়লা ছাকা চলছে। বালু থেকে কয়লা ছেকে জীবন ধারণ করে অনেকে।

DSCN1111

কয়লা ছাকতে ছাকতে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে যায়। এরকম বহু গর্ত রয়েছে সমেশ্বর নদীর আশপাশে বালুতে।
DSCN1134

সমেশ্বরী নদীতে কয়লার নৌকা।
ছবি তুলেছেন: রূপম ভাই
DSCN1093

“নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস,
ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।” আমাদেরও তাই মনে হচ্ছিল
ছবি তুলেছেন: রূপম ভাই
DSCN1091

DSCN1080

আমার ছবি তোলা হয় নাই। তারা কেবল নিজেদের ছবি তোলায় ব্যস্ত ছিলেন।
ছবি তুলেছেন: রূপম ভাই

DSCN1074

DSCN1070

সিনিয়র পর্যটক প্রকৃতির নৈকট্য গ্রহণের চেষ্টা করছেন। আপাতত তিনি অর্ধ ডুবন্ত।

DSCN1053

সিনিয়র পর্যটক!
DSCN1040

সৌন্দর্য্য। ক্যামেরায় ধারণ করার যোগ্যতা হয় নাই এখনো।

DSCN1035

পর্যটকবৃন্দ সৌন্দর্য্য দর্শনে বিস্ময় প্রকাশ করছেন

DSCN1033

বড় ভাইয়ের সাথে একটা ছবি না দিলে বেয়াদবি হয়ে যায়!
DSCN1020

সমেশ্বরী নদীর টলটলে ঠান্ডা পানি। আহা শান্তি!
DSCN1016

পর্যটকদের না দেখলেই নয়।
DSCN1015

খোলা আকাশের নিচে বিশাল জমিন দেখতে চেয়েছিলাম। আশা মিটেছিল।
ছবি তুলেছে: দিপু
DSCN1013

ছবিতে আমাকে আর রূপম ভাইকে দেখা যাচ্ছে। সবার আগে আমাদের ড্রাইভার সাব।
ছবি তুলেছে: দিপু

DSCN1009

বর্ডারের কাছে পাহাড়। আমাদের না। ভারতের মালিকানায়।
ছবি তুলেছে: কেডায় তুলছে ভুলে গেছি। দিপু হতে পারে রূপম ভাইও হতে পারেন।

DSCN1006

ওই দূরে পাহাড়। নদীর বুকে বালু তোলার ট্রাক। আর মানুষ তুলে কয়লা। ছেকে ছেকে।

DSCN1001

DSCN0998

কয়লার আয়রন।DSCN0997
DSCN0996

মগ্রা নদীর একাংশ। শুকনো মৌসুম। তাই খাল খাল লাগতেছে। ভরা মৌসুমে কি অবস্থা হয় জানি না। তুলে রাখলাম। আর কই বছর পর এতটুকুও থাকবে না।

DSCN0978

এই ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফিটি করেছেন রূপম ভাই। তার ছবি তোলার নিয়ম হচ্ছে অসংখ্য ছবি তোলা। সেখান থেকে একটা বেস্ট মনোনীত করা।
DSCN0967

বৃক্ষের ছবি তুলেছেন রূপম ভাই। তিনি আবার প্রকৃতিপ্রেমী
DSCN0963

রেস্ট ছাউনিতে বিশ্রামরত দুজন পর্যটক।

DSCN0961

DSCN0958

নেত্রকোনায় থাকার হোটেল খুজতেছিলাম। আমরা খুব সকালে পৌছানোতে একটাও খোলা পাই নাই। যেটা আমাদের ভাগ্য হলো সেটার ভূমিকা গল্পটা সুন্দর। তবে উপসংহার টা ভালো না।
সেটা যাই হোক, হোটেলটার সামনে বিশ্রাম নেয়ার চমৎকার জায়গা রয়েছে। নোটিশ রয়েছে, বাইরের কেও এই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন না।
DSCN0956

স্মৃতি রক্ষণ কর্মকান্ড। এইবার আমিও আছি। সাথে রূপম ভাই।
ছবি তুলেছেন: দিপু

DSCN0946

DSCN0945

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *