দিপুদের বাসায় পহেলা বৈশাখ আনন্দ আয়োজন!

আমরা খেতে পছন্দ করি এমনটা না বলে আমাদের মায়েরা খাওয়াতে বড় বেশি পছন্দ করেন এটা বললে বরং অধিকতর যুক্তি সংগত হয়। কেবল সরল ভালোবাসা আর নির্মল আনন্দ এর জন্য এত আনন্দ আর ভালোবাসা যে মায়েরা দিতে জানেন তা ভেবে কখনই হতাশার পৃথিবীতে হতাশ হই না। হাসি খুশি আর নির্মল আনন্দ এখনো রয়েছে পাশাপাশি দুশ্চিন্তা, হতাশা, দুর্ঘটনা ইত্যাদি নেতিবাচক শব্দগুলোও রয়েছে। সব মিশ খেয়ে এখনো বেঁচে আছি বলা যেতে পারে।

যে জন্য এতো ভূমিকা করা তার কারণ আমার দুটি ভাই বোন দিপু-রেবেকা এবং তার পরিবার যা দেখালো পুরো পহেলা বৈশাখকে স্মরণীয় করে রেখে দিলেন। আপনাদের যদি আফসোস হয় তাহলে দয়া করে নিচের দিকে আর পড়বেন না। আর যদি পড়েই ফেলেন তবে কিন্তু লোভ সামলে পড়তে হবে।
মা দের কথা যখন বলছিলাম, তখন আমাদের এই প্রিয় আন্টি, দিপু-রেবেকার মায়ের, আমাদের প্রতি ভালোবাসার কথাই আজকে বলতে হচ্ছে। তবে কথা দিচ্ছি অন্য মায়েদের-বাবাদের গল্পও হবে।
গত পরশু রেবেকার ফোন। আমাকে নাকি পহেলা বৈশাখে সকাল সকাল চলে আসতে হবে। তারা আড্ডা দিবে, গান হবে, অনেক মজা হবে। আমি কথা দিতে পারছিলাম না। আমাদের পূর্ব পরিকল্পিত কাজ সূচিতে কিছু পরিবর্তন আসায় সুযোগটা হাতছাড়া করা গেল না। সকালের রওনা একটু দেরি হয়ে গেল। আন্টি আমার জন্য যত্ন করে পান্তা আর ভর্তা করে রেখেছিলেন। দুপুর বলে আর খাওয়া হল না। বসতে না বসতেই কাটা কাটা তরমুজ হাজির। ফলের মধ্যে তরমুজ যে আমার অতি প্রিয় সেটা বলাই বাহুল্য। তরমুজ খাচ্ছি। এদিকে ছবি তোলা হচ্ছে। দোলা আপা একটার পর একটা ছবি তুলছেন। মজার কিছু কেও বলছেন আর হো হো করে আমরা হেসে উঠছি। একটা তরমুজ শেষ করতে করতেই আরেকটা তরমুজ বগলদাবা করে হাজির পাপ্পু ভাই, বেণুকা আপা আর অন্তরা। অন্তরা আসার পর অনুষ্ঠান মাতাতে আর দ্বিতীয় কাওকে লাগে না। সে একাই নেচে গেয়ে বলে সব কিছু মাতিয়ে রাখল।
মজা করতে করতে যখন আমরা ক্লান্ত তখনই দেখি এটা সেটা কাটার তোড়জোড় শুরু। বুঝতে পারলাম নতুন কোন খানা দানা ডোজ হবে! কাচা আম, শসা, গাজর আর লেবু কয়েকজন মিলে কাটাকাটি করলেন। এরপর কাচা আমের সাথে একটু চিনি সহযোগে এমন অমৃত জিনিস বানানো হল তা খাবার জন্য হুমড়ি পরে গেলাম। আরাফাত আর ব্রুণো তো পারলে বাটি চেটে চেটে খেয়ে সাফ করে ফেলে। tongue emoticon
টক খাবার দরুন পেট একদম পরিষ্কার। এখন যাদু পুরা আমাদের আন্টির হাতের। দিপু, রূপম ভাই, রেবেকা আর আরাফাত মিলে একের পর একে আইটেম আনছে আর ফ্লোরে রাখছে। আইটেম রাখতে রাখতে রান্না ঘর পর্যন্ত জায়গাই লাগলো। সিদ্ধান্ত হল এত খাবার যার যার রুচি পছন্দ মাফিক নিয়ে খাবেন। আর যাই কোথায়! কেবল আইটেমগুলোর নাম মনে রাখুন স্বাদ অমৃত বলার অপেক্ষা রাখে না।
১. ইলিশ মাছ ভাজা
২. পাট শাক
৩. লাউ শাক
৪. কালি জিরা ভর্তা
৫. করলা ভাজি
৬. ধনে পাতা বাটা
৭. সরিষা বাটা
৮. চ্যাপা শুটকি
৯. নিরামিষ
১০. গরুর মাংস
১১. আম ডাল
১২. পোলাউ
১৩. সাদা ভাত
খাবার শেষে বিকাল বেলা দু দফা রঙ চা। সাথে ছিল বিস্কুট। আবার ছিলো আইসক্রীম!
… আরো বাদও পড়তে পারে। আমার স্মরণ শক্তি সুবিধার নয়। এই সবই আমরা খেয়েছি। আন্টি আর রেবেকা রান্না করার জন্য কম কষ্ট করেন নাই। সারাদিন রান্না ঘরে আমাদের জন্য এই গরমে রান্না করছেন। আংকেল নিশ্চয় বাজার করেছেন। দিপু একটু পর পর এটা সেটা করে দিয়েছে। যত্ন আত্তির শেষ যেন নেই। তাদের এই অপরিসীম কষ্ট আমাদের সবার আনন্দ এর জন্যই ছিল। আমরা অনেক ভাগ্যবান। একই সাথে কৃতজ্ঞ।
কারা কারা ছিলেন আজকের এই আয়োজনে এই নামগুলোও তো জেনে রাখা দরকার বটে। আফসোস এর মাত্রা না হয় আরেকটু বাড়লই। আমাদের সাথে ছিলেন, অন্তরা, সাবা, ব্রুণো, সম্রাট, আরাফাত, রূপম ভাই, বেণুকা আপা, দোলা আপা, ফারুক স্যার, পাপ্পু ভাই, সেলিম ভাই এবং আমি। ঘরের মানুষ দিপু, রেবেকা, আন্টি আর আংকেল তো ছিলেনই। কেবল খানা দানা হয়েছে বললে তো মস্ত অন্যায় হবে। সেই বেলা দুপুর থেকে শুরু হওয়া আড্ডা যেন থামতে থামতে হয়ে গেল সন্ধ্যা। এর মাঝে গান হল, বাঁশি হল। অন্তরার নাচ হল। আর কত কি! কিন্তু সব কিছুরই সমাপ্তি আসে। যার যার নীড়ে ফেলার তাগিদে আমাদের আনন্দ আয়োজনেরও ইতি ঘটলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *