মা দিবস

আমরা সব চেয়ে সহজ পথে ভালোবাসতে চাই। এই যেমন মাকে ভালোবাসতে হলে, প্রোফাইল পিকচারে মা এর ছবি দিলেই হল। কিংবা ছোট করে একটা স্টেটাস দিয়ে দিলাম। ভালোবাসা দেখানো হল। কিন্তু আমার মতন ছেলেরা, উঠতে বসতে এই যেমন মা চা খাবো, মা রাতে এটা খাবো, মা সকালে এটা খাবো।… আমাদের এই যন্ত্রণা সইতেই তাদের যেন ভালো লাগা।

মা দিবস রয়েছে। আমার ভালো লাগে। সবাই এই দিন নানা কিছু করে আমার ভালো লাগে। সবার স্টেটাসগুলো পড়ার পর আরো ভালো লাগে। তবে কেন জানি মনে হয়, এই এত ভালোবাসার উচ্ছাস, এত ঢেউ মা এর কাছে পৌঁছায় না।

আমার এক বন্ধু আছে। সে ছোটবেলা থেকেই মা এর সেবাযত্ন করে। এতটা করে সেই মাত্রায় আমি কখনেই যেতে পারবো না। প্রায়ই শুনতাম সে রান্না বান্না করছে বা করতে হত। বাইরে থেকে আমার অনেক কিছুই খেতাম। বন্ধুটি তার মা এর জন্য এটা সেটা নিয়েও যেত। বাসায় নিয়ে কোন কিছু মায়ের সাথে শেয়ার করে খেয়েছেন কখনো?

আমার আরেক বন্ধু তার মায়ের সাথে শেয়ার করে না এমন কোন বিষয় নাই। যত আকাম কুকাম করছে তার কথাও যেমন বলে তেমনি প্রেম প্রীতি করলে সেই কথাও বলে। মা এর কাছে সে একদম ধব ধবে সাদা। আমি কি পারবো এরকম ধবধবে সাদা হতে?

আরেক বন্ধু আছে। মাঝে মাঝেই মাথা বিগড়াইয়া যায় তার। এই তো সেদিন কার সাথে যেন মারামারি বাঁধায়। সন্তানকে পুরোপুরি চেনার পরো মা সন্তানের পক্ষেই বলছেন। তারপর বাসায় এনে আস্তা মতন ধোলাই!

আরেক বন্ধুর মা যেন তার বন্ধু। ফেসবুকের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী, ভিডিও সে তার মা কে দেখাতে ভুলে না। মাও অবাক হয়ে বলেন, তাকে যেন ইন্টারনেট টা শিখায় দেয় সে 🙂 কত মধুর দৃশ্য হতে পারে সন্তান মা কে শেখাচ্ছে কিভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয়!!!

আচ্ছা, মা দেরও তো আমাদের মতন বয়স ছিল। তাদের স্বাদ আহ্লাদগুলো কি? আচ্ছা ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতে আমি যে আনন্দটা পাই মাও কি সেই আনন্দটা পাবে? আচ্ছা, মা কে যদি একটা ক্যামেরা কিনে দেই সে ছবি তুলবে না? তার কেমন লাগবে? আমি যে কত কত জায়গায় ঘুরতে যাই। মা এর কি ভালো লাগবে? এভাবে ঘুরতে? ঢাকার ভেতরেই তো কত জায়গা আছে। মা কে নিয়ে তো যাওয়া হয় না কখনো। মা দের আর কি শখ থাকতে পারে, যা বছরের পর বছর শ্যাওলা ধরে শখগুলো হারিয়ে গেছে। জানা যাবে কি মা দের শখগুলো কি? এটাই বা কেমন হত, মা দের বন্ধুবান্ধবদের সাথে হঠাৎ করে দেখা করার ব্যবস্থা করে দিয়ে। কাজগুলো কি খুব কঠিন হবে? 🙂 মনে হয় না। খুব সহজ ছোট ছোট কাজ।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে মা বাবা রা একলা হতে থাকেন। এই একলা হবার কারণ আমরাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *