মধ্যরাতে বাসি পোলাও

মধ্যরাতে বাসি পোলাও খাওয়া হুমায়ূন আহমেদের গল্প তে পাওয়া যায়। কথা নেই বার্তা নেই হুট করে মধ্যরাতে পোলাও খাওয়ার ইচ্ছা হয় এবং তা পূরণ করা সম্ভব কেবল হুমায়ূন আহমেদ কল্পনাতেই। কল্পনা হোক যাই হোক, হয়তো লেখকের মাঝে মধ্যে বাসি পোলাও খেতে ইচ্ছা করত। অনেক রাত পর্যন্ত লেখার পর খিধা পেলে তার মনের ইচ্ছা বাসি পোলাও হয়তো হিমু কে দিয়ে খাওয়াতেন নয়তো, অন্য কোন গল্পের চরিত্র দিয়ে সুসমাপ্ত করতেন। এতেও শান্তি আছে। কল্পনা করার শান্তি।

লেখক মধ্য রাতে হয়তো পোলাও পরখ করে দেখেছেন। আমি মধ্য রাতে অনেক কিছুই খাই। বাসি পোলাও খেলেই লেখকের কথা মনে পড়ে। একটু আগে আমি বাসি পোলাও খাচ্ছিলাম। কেবল বাসি বললে ভুল হবে। বাসি পোলাও এ দু চামচ ঘি মিশিয়ে ভেজে নিয়েছি। ইদানিং সব কিছুতেই ঘি মেশানো আবার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

আমার বাবার ধারণা আমার বুদ্ধি কম। তাই ঘি কিনেছি। ঘি খেলে বুদ্ধি বাড়ে এটা আগামী এক মাসের পর্যবেক্ষণমূলক বৈজ্ঞানিক প্রকল্প। বুদ্ধি যদি না বাড়ে আমার অসুবিধা নাই। বরং খুশি হবো। কিছু জিনিস আছে নাটক নাটক খেলা খেলতে হয়। এটা শিখছি আমাদের দেশ পরিচালনাকারীদের কাছ থেকে। যুদ্ধ টুদ্ধ না বাঁধলেও তাদের বিমান কিনে রাখতে হয়। নিরাপত্তা বলে কথা! আসলে কাজের কাজ কিছু হয় না। নাটক নাটক। তারা জানে, আমরা নাটক ভালোবাসি। তাই একটা বিমান কিনতে নাকি ১০০ জন যেতে হয়। অবশ্য কথাটা সত্যতা জানি না। মিথ্যা কথা বলতে তো আরো মজা! মিথ্যা হলে নাটক নাটক জমবে ভালো।

বাসি পোলাও নিয়ে কথা বলতে বাসি রাজনীতিতে চলে গেছি। মাথাটা বড্ড গেছে। আমার দেয়া খাবার দাবার বিষয়ক স্টেটাস বেশি কিনা! সেই কারণে সুবার কু দৃষ্টি পড়েছে। খাবার দাবার এ রুচি নাই। তাই আমি খাবার দাবার এর সাথে রাজনীতি সহ তাবৎ বিষয় যুক্ত করে পাঠক কে একটা মিশ্র স্বাদ দিতে যাচ্ছি। এতে পাঠকের বদ হজম হলে আমি দায়ি থাকবো না।

আজকে খেলা দেখলাম। আফগানিস্তান বাংলাদেশ এর কাছে পরাজিত। ভালো লেগেছে। বাংলাদেশে তো ক্রিকেট বিশ্বে শক্তিশালী দল। তাই আমি ভাবলাম, শক্তিশালী দল এর পক্ষ থেকে আফাগানিদের একটা বুদ্ধি দেই। গায়ে জোরে আফগানিরা কোন দেশের চাইতেই কম যান না। তাদের বুদ্ধি একটু কম। আমার খুব ইচ্ছা করছিল বলতে, ও আফগান ভাই, কাবুলিওয়ালা ভাই, বাংলাদেশ থেকে ঘি কিনা নিয়ে যান। দুই বেলা ঘি খান বুদ্ধি বাড়ান! এত বড় শরীর নিয়ে আমাদের বিশ্বখ্যাত বোলারের প্রথম বলকেই ছয় এ পরিণত করা যায় না। এটা তো জানতে হবে। না হলে দেখলেনই তো কেমন ক্যাচ আউট টা হলেন।

পোলাও খাচ্ছি আর লিখছি। পোলাও এ কড়া একটা গন্ধ আছে। বেশি দারচিনি দেয়া হয়েছে। আমি ইদানিং রান্না বিশেষজ্ঞ হতে যাচ্ছি। বিভিন্ন খাবার দাবার রেটিং দিতেও পারি। এলাকায় আমাদের একটা ছোট সংগঠন আছে। নাম ভোজন কমিটি। এলাকার দরিদ্র সম্রাট রা এর সদস্য। একমাত্র লক্ষ উদ্দেশ্য ভোজন করা। ভোজনে উৎসাহ প্রদান!

আমার এক ছোট বন্ধু আছে। সে মাঝে মাঝে প্রচলিত কথা গুলো খুব আবেগ মিশিয়ে উপস্থাপন করতে পারে। মনে হতে পারে, কি দার্শনিক কথা রে! যেমন: জগতে কিছু কিছু মানুষ আছে তারা … ডট ডট এ কিছু বসিয়ে নিলেই হয়। দার্শনিক কথা রেডি। আমি একটা বলি জগতে কিছু কিছু মানুষ তারা সমস্যায় জড়াতে চান না। জড়াতেই ভয় পান। আমি আবার দার্শনিক কথা বলে বক্তব্য শেষ করি না। স্কুল এর পরীক্ষার উত্তর খাতার মত আমি উদাহরণ দেই। এটা আমার কুস্বভাব। জগতে ঐ কিছু কিছু মানুষের মধ্যে রকমারি.কম এর সোহাগ ভাই এর নাম মনে ধরলো। আমার উদ্দেশ্য তার দোষারপ নয়। তিনি অনলাইনে একটা বই এর দোকান দিয়েছেন। মাত্র ৩০ টাকা খরচে ঘরে ঘরে বই পৌছে দিচ্ছেন। বিষয়টা আমার খুব ভালো লেগেছে। আইডিয়াটাই চমৎকার। কিছু আইডিয়া সমাজের জন্য খুব কল্যাণ নিয়ে আসে। আমার কাছে মনে হত বই ছড়ানোর ক্ষেত্রে রকমারি বিরাট অবদান রাখবে। বই দোকানটিতে সব ধরণের বই ছিল। তা থাকাই উচিত। কিন্তু ফেসবুকে প্রবল শক্তিশালী(!) এক এক্টিভিস্ট(!) ফারাবি এক ফতোয়া প্রসব করলেন। নাস্তিকদের কোন বই থাকা যাবে না। তার বক্তব্যে শ্রদ্ধেয় সোহাগ ভাইয়ের প্যান্ট নাকি ভিজে গিয়েছিল ফেসবুক ফারফত জানতে পারলাম। প্যান্ট ভিজে গিয়েছিল বলে কিনা জানি না, তিনি পরদিন এক মিটিং এই ধরণের বই রকমারি থেকে নামানোর ব্যবস্থা করেন। এবং একটি প্রেস রিলিজ সবার জ্ঞাতার্থে প্রচার করেন।

মজার বিষয় হল, আস্তিক ভাইয়েরা নাস্তিক ভাইদের বই রকমারিতে রাখতে দিবেন না। নাস্তিক ভাইয়েরা আস্তিক ভাইদের বই রাখতে দিবেন না। দেশের সরকার বলে যে কিছু একটা আছে তা মনে আসে না। দুঃখজনক। দেশের আইনে যে বইগুলো নিষিদ্ধ না তা এক প্রবল শক্তিশালী(!) এক এক্টিভিস্ট(!) এর হুংকারে রকমারি থেকে আছাড় খেয়ে পড়লো তা দেশের আইন এবং আইনের প্রয়োগ কতটা নরম তাই প্রমাণ করে।

আরো মজার বিষয় হলো, উতি উৎসাহী কেও কেও রকমারি.কম বর্জন দিয়ে একটা ইভেন্ট খুলে বসলো। প্রগতি মনা শ’য়ে শ’য়ে গোয়িং হল। আমিও যথেষ্ঠ উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে গোয়িং দিলাম। আন্দোলন বলে কথা। আমি ঘোষণা দিলাম, বই গুলো ফেরত আনা না হলে রকমারি থেকে বই নিবো না। আমি নিত্যান্তই দরিদ্র মানুষ। আমার ঘোষণায় কারো কিছু আসে যায় না। কিন্তু একটা বিষয় উল্টা করে ভাবা যায়, এই তথাকথিত প্রবল শক্তিশালী(!) ফেসবুক এক্টিভিস্টরা(!) আসলে রকমারি.কম এর পতন চায়। আজ তারা নাস্তিক দের বই নামাতে বাধ্য করছে। কাল অমুসলিমদের বই নামাতে বাধ্য করবে। তারপর কবিতা তারপর গল্প তারপর বিজ্ঞান তারপর এভাবে সব বই নামাতে বাধ্য করবে। কোথাও কেও বলার থাকবে না। কারণ, বই পড়া হারিয়ে গিয়ে সবাই অনলাইন এক্টিভিস্ট এ ব্যস্ত হয়ে যাবে!

আমি বড় আশা করেছিলাম সোহাগ ভাই পিঠে টান টান করে সোজা হয়ে দাড়িয়ে বলবে, রকমারি একটি বই বিক্রির দোকান। এখানে সব বই বিক্রি হবে। হল না। পিঠ ভাঙা লোক বাড়তেছে। আমরা হচ্ছি, শিরদাঁড়া ভাঙা কঙ্কাল।

সবকিছুতেই আমার মজা করা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আমার লেখা এতটুকু পড়ার পর যারা বিরক্ত তাদের একটু বিনোদন দেয়া দরকার। আজকাল বিনোদনের যা অভাব। দামও বটে। পয়সা ছাড়া বিনোদন পাওয়া যায় না। বিনোদনটা ঠিক বিনোদন কিনা জানি না, বন্ধু মুখে শুনলাম। মার্ক জাকারবাগ নাকি ফারাবি ভয়ে ঘুমুতে পারছে না। রিপোর্ট করেছে ডেইলি মেইল, বিবিসি, সিএনএন, নিউ ইয়র্ক টাইমস ইত্যাদি পত্রিকা। লিংক আমার কাছে নাই। খুজে নিতে পারেন। জাকারবাগ একট সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে দেখিয়েছিন তার চোখ যথেষ্ট লাল এবং ভীত। ফারাবি যদি কোন কারণে হুমকি দেয়, ফেসবুকএ কোন নাস্তিক পোস্ট স্টেটাস দিতে পারবে না, তাইলে সেরেছে। চিন্তায় ক্লান্ত হয়ে বিশেষ দূত প্রেরণ করেছেন ফারাবি বরাবর। ফারাবি জানালেন, তার ফেসবুকে এইরূপ ফতোয়া দেয়ার কোন ইচ্ছা আগামী ২ বছরে নাই। নিশ্চিন্ত থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি মনের সুখে শীষ দিতে দিতে ফেসবুকিং করতে লাগলেন।

আমি আমরা চলতে থাকলাম উদ্ভট এক ব্যবস্থার মধ্যে। যার কোন সমাধান নাই। সব বাসি পোলাও। সব বাসি পোলাও হয়ে যাক।

4 comments on “মধ্যরাতে বাসি পোলাও

  1. সোহান says:

    লেখাটা শুরুর দিকে প্রচন্ড ক্ষুরধার ছিলো, পাঠককে যেনো নারীর বক্ষাদেশে তাকিয়ে থাকার চুম্বকের মত টেনে রাখছিলো, কিন্তু একটু মাঝের দিকে এসে স্থুল পেটের মতো ঝুলে গেছিলো। তবে সেটা পুষিয়ে নিয়েছে শেষ অংশে দারূণ স্টাইলিশ সমাপ্তি। লেখাটা বাসী পোলাওয়ের মতোই মজা। পোলাও এর সাথে মসুর ডাল খুবই টেস্টি।

    1. eklotan says:

      আপনার দৃষ্টি সব সময় বক্ষদেশ এর দিকে নিবষ্ট থাকে আমার জানা ছিল না 🙁

  2. আরাফাত says:

    আমার মনে হয়, ফেসবুকে শুধু বড় বড় স্ট্যাটাস না দিয়ে ব্যাক্তিগত ব্লগে আপডেট দেয়াটাই সবচে ভালো। কারণ ফেসবুকে সবকিছু হারিয়ে যায়। বিশেষ করে লেখাগুলো। ব্লগে রাখলে জিনিসটা সিরিয়াসো থাকে।

    চালিয়ে যান।

    1. একলোটন says:

      এর জন্যেই তো ব্লগ চালু করলাম। সিরিয়াস লেখা আসার আগে একটু হাত ঝালাই করে নেই। কি বলেন :O

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *