খানা দানা সারাদিন

আজকে মানে গতকাল আম্মু আম আর কাসুন্দি দিয়ে মাখিয়ে খাওয়াইছিল। মনটা ফুরফুরে লাগছিল। বিকাল পর্যন্ত কাজ করছিলাম। ঝিমুনি চলে আসে। ভাবলাম কফি কিনে আনি। দোকানে যেতে যেতে এক বড় ভাইকে দিলাম ফোন। তিনি বললেন বাসায় চলে আসো, কাজ করতেছি।

গেলাম। কেমিক্যাল মুক্ত আম খেলাম। 🙂 অতপর সালাম ডেইরির মিষ্টি আর সুরা গিলতে গিলতে কাজ করছিলাম। ভাইয়ের এক্সেল শীট এ সংখ্যা উঠাইতে উঠাইতে প্রয়োজন হল স্ট্যাপলার পিনের। বড় ভাইয়ের সাথে নিচে নেমে প্রথমে খেলুম সবজি পরোটা। তারপর খেলুম সালাম ডেইরির সেই রকম মিষ্টি 🙂 বাসায় আসার পর কারেন্ট নাই। বড় ভাই নিজের হাতে আম ছেইচ্চা সরবত বানাইয়া দিলেন। তাদের দক্ষিণা বারান্দায় বসে আমের জুস পান করতে থাকলাম। কারেন্ট আসার পর বিরতিতে আবার চা!

সবশেষে বাসায় ফেরার সময় হয়ে আসছে, রাতে খানা খেয়েই এলুম। রুই মাছের মাথা রান্না এবং সেই রকম একটা ডাল! এক কথায় অসাধারণ। 😀

মুগদা এসে বন্ধু দরিদ্রকে ফোন দিলাম। দরিদ্র ওয়াপদাগলির এক মাথা থেকে আরেক মাথায় দৌঁড়াইতেছে। কারণ তার বাসায় খানা নাই :/ আন্টি গেছে গাজীপুর 🙂
আমার আজকের খাবার ফিরিস্তি শুনে স্বভাবতই দরিদ্র এর মন খারাপ 🙁 দরিদ্রকে ভালো বুদ্ধি দিলাম বড় বাজার ছোট খাবারের দোকানটাতে খেতে। সেকথা রাখলো না। সে বড় বাজার বড় হোটেলে বড় বোয়াল মাছ অর্ডার করলো। যথারীতি যা হবার তাই। এক প্লেট কষ্ট করে লেবু কচলিয়ে কোন মতে খেয়ে সিপিতে বসে ফান্টা দিয়ে পেট ভরতে হল শেষমেশ। হাফ সাইজের ফান্টা সম্রাট আমি আর দরিদ্র তিনভাগ করে খাবার পরও দরিদ্র আরো ছোট দুটি ফান্টা পান করলো। তার ভাষ্যমতে, বিজয়ীরা একই কাজ ভিন্নভাবে করে। যেহেতু আমরা একবার ফান্টা খেলাম সেহেতু তার ফান্টা খেতে হবে তিনবার 🙂

সবশেষে, ১০ টাকায় ২টা মশার কয়েল কিনে বাসায় আসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *