অন্তরার জন্মদিন এবং ভোজন গল্প

৯ তারিখ ছিল অন্তরার জন্মদিন! আমি আবার অন্তরার মামা চাচা দুটিই হই। সংক্ষেপে মাচ্চু 😛 জন্মদিনের ঘরোয়া অনুষ্ঠান বেণুকা আপা করলেন, পরদিন ১০ তারিখ। আমি গেলাম। ব্যাপক আনন্দ মজা হল। অন্তরার সাথে খেলাধুলা করা হল। বিমান চালানো, গল্ফ খেলা সবই হল। 🙂 ফটোসেশন হলো। গড়ে তিন জনের মধ্যে একজনের একটা করে ক্যামেরা। আমি লজ্জা পেয়ে আর মোবাইলের ক্যামেরাটা বের করি নাই 😀

অন্তরা তার বান্ধবী স্নেহাকে নিয়ে ৩টা মোমবাঁতি তিন বারে ফুঁ দিয়ে নেভালো। আমরা তালি দিলাম। এবার কয়েক ধাপে চললো ছবি তোলা। এত এত ছবি তোলার পরও আমাদের দোলা আপার ছবি তোলায় মন ভরে নাই। তিনি আরো ছবি তুললেন। আমি একটা ক্যামেরা ধার করে পোট্রেট তোলার চেষ্টা করলাম। মজার মজার ছোট ছোট কান্ড ঘটলো যা লেখাতে বুঝানো সম্ভব নয়। 🙂

অতঃপর আসলো কেক খাওয়া এবং রাতের খানা দানা সেশন। আমি যথারীতি বললাম, আমিই তো কেবল খানা দানা খাই!!! আমি ই তো খাদক! আপনারা খানও না তাই বলেনও না। ঠিকাছে, আজকে যারা যারা অনুষ্ঠানে খাচ্ছেন দেখবো নি… ফেসবুকে কেমন লিখেন! আর না যদি লিখেন আমার নিয়ে কোন কথা বলা যাবে না। সবাই দেখলাম তর তর করে খেয়ে উঠল। আমি খেতেই পারছি না। অথচ নাজমুল সবার আগে খাওয়া শেষ। ব্রুনোর খাওয়া শেষ। সজিব ভাইয়ের খাওয়া শেষে, আমার পানির গ্লাস নিয়ে সেভেন আপ খায়! আবার বলে, সেভেন আপ খাবা :’(

দোলা আপা আগেই হুমকীতে ভয় পাইছেন। তাই তিনি বলছিলেন, খাবার আগে তার নাকি ওষুধ খেতে হয়। তিনি পরে খাবেন। আসল ব্যাপার তিনি একটা ফাঁকি দিলেন।

ইঁলিশ মাছ ভাজা দিয়ে পোলাও খাওয়া শুরু করি। অস্থির রকম স্বাদের একটা সবজি ছিল সাথে। তারপর গরুর মাংস রান্নাটা মশল্লার কম্বিনেশন যা হয়েছিল না! এখনো মুখে পানি চলে আসছে! নাজমুলকে বললাম, আমাকে একটা লেবু এনে দিতে। ও আনতে আনতে আমার খানা ৭৫ ভাগই শেষ। ওরা সবাই কত মজা করে খেলো, গোগ্রাসে খেলো। আমি আস্তে আস্তে ধীরে, খাবারের যে একটা আর্ট আছে, সেটা ধরে রেখেই খেলাম।

ওরা বলে, আমরা নাকি ভোজন রসিক। আমরা অস্বীকারও করি না। কিন্তু যারা এসব বলেন, তারা নিজেরা খান ঠিকই। কিন্তু বলেন না। আমাদের রূপম ভাই সেইদিন হোটেল নীরব এ খেয়ে এসে গল্প করেন। আমাদের দোলা আপা সপ্তাহে ৭ দিনই নানা স্বাদের খাবার রান্না করেন। ব্রুনো আর স্যাারকে নিয়ে খান। আমাদের সজিব ভাইয়ের বিকেলের নাস্তায় পুরী আর নুডলস্ চা, কফি না হলে চলেই না। আমাদের আরেক রত্ন, নাজমুল। ২৪ ঘন্টা অনলাইনে কি হচ্ছে সব খবর রাখেন। কোন ঘটনা ঘটলে পোস্টিং দেন সবার আগে। কিন্তু যা বলেন না প্রতিদিন যা খান।

ভোজন রসিক কমিটির এক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দরিদ্র। তাকে ফোন এ সব খানা দানার দাওয়াত না দিলে হতে হয় স্বার্থপর। আর উনি যে প্রতিদিন বেইলীরোড সহ যত খানে যান, সব ভাজা ভাজা করে খান তা প্রকাশ করেন না কিংবা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন না। :/ আরেক ভোজন রসিক কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সম্রাট। উনার পকেটে টাকা থাকুক আর না থাকুক। যা খাবেন খেয়েই ছাড়বেন। কিন্তু সেই সংবাদ ফেসবুক অবধি আসে না।

সর্বশেষ থাকলো নিরীহ এই অন্য প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমি। আমি যা খাই। লিখে রাখি তাই। আমার মায়ের রান্না ভালো লাগে। তাকে থ্যাংকস দিয়ে লিখি। কোন বড় ভাই-বোন, ছোট ভাই-বোনরা খাওয়ালে লিখি। কোথাও ভালো খাবার এর সন্ধান পেলে লিখি। কেন লিখি? সেটা স্মৃতি হয়ে থাকে তাই। কেও যদি আমার লেখা পড়ার পর ঐ খাবার খেতে যায় তবে সে তো ভালো খাবার পেলো, তাই না? আর আমাদের তো ভালো গল্প পড়ার অভ্যাসই উঠে যাচ্ছে। এই যে সময় গড়িয়ে যাচ্ছে, ১০ বছর পর যাবেন ভুলে। এই সময়গুলো জীবন্তু রাখার উপায় হচ্ছে ছবি তোলা, গল্প লিখে রাখা। আমি তাই করি। এতে আপনাদের অনেকরই পেট খারাপ হয়ে যায় 😛 অনেক সময় পেট ব্যথা করে 😛

আমি বলেছিলাম, রাত ২টা পর্যন্ত দেখবো। তারপর ধোলাই শুরু হবে। এখন পর্যন্ত কারো কাছে একটা পোস্ট পাইলাম না গতকালের খানা দানা নিয়ে। তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন আসে, আসলে তারা কেবল খেতেই জানেন। খাবার উপভোগ করতে জানেন না। উপভোগ করতে হলে গল্প বলতে হয়। আমরা সবাই সবার গল্প শুনতে চাই 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *